ফিনল্যান্ডে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণে গুগলের ১৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে ফিনল্যান্ডে আগামী দুই বছরে প্রায় ১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। গুগলের দাবি, ইউরোপে কোনো একক প্রকল্পে এটি তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে ফিনল্যান্ড। মাইক্রোসফট ও টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সসহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানি দেশটিতে ডেটা সেন্টার স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছে। কম জ্বালানি ব্যয় এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগই এর অন্যতম কারণ।
ফিনল্যান্ডের শীতল আবহাওয়া ডেটা সেন্টারের সার্ভার ঠান্ডা রাখার ব্যয় কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে দেশটিতে বিপুল পরিমাণ কম-কার্বন বিদ্যুৎ উৎপাদিত হওয়ায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার পরিচালনায় সুবিধা পাচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কারণে এআইনির্ভর কম্পিউটিং সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ফিনল্যান্ডের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
অ্যালফাবেট জানিয়েছে, ফিনল্যান্ডের বিনিয়োগের অর্থ শুধু নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণেই ব্যয় হবে না। বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন এবং ব্যাটারি প্রকল্পেও বিনিয়োগ করা হবে। এসব অবকাঠামো গুগলের জেমিনি, সার্চ, ম্যাপস ও ইউটিউবের মতো বিভিন্ন সেবা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা জোগাতে সহায়তা করবে।
গুগলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিনিয়োগের প্রধান কার্যক্রম ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বাস্তবায়িত হবে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বলছে, নির্মাণপর্বে প্রকল্পটি ফিনল্যান্ডের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখতে পারে। ডেটা সেন্টারগুলো চালু হওয়ার পর প্রতিবছর প্রায় ৭ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানিয়েছে গুগল।
গুগলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অরপো। তিনি বলেন, এ বিনিয়োগ ফিনল্যান্ডের সক্ষমতা ও শক্তির প্রতি গুগলের আস্থার স্পষ্ট প্রমাণ। তার মতে, ডেটা অর্থনীতির গুরুত্ব কেবল সরাসরি বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমও আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।
মতামত দিন