ডিগবাজি খেয়ে থ্রো-ইন, সেই বলেই গোল
ফুটবলে প্রায়ই অসাধারণ পাস, চমৎকার ড্রিবলিং আর চোখজুড়ানো গোল দেখা যায়। তবে এর বাইরেও খেলায় এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা আলাদাভাবে ভক্তদের নজর কাড়ে। সম্প্রতি রাশিয়ার দ্বিতীয় ডিভিশনের এক ফুটবল ম্যাচে তেমনই এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ইরানি ডিফেন্ডার নাদের মোহাম্মাদি। ডিগবাজি খেয়ে তার নেওয়া ব্যতিক্রমী এক থ্রো-ইন থেকে তৈরি হয় এক স্মরণীয় গোল। ফুটবলের পরিভাষায় এমন কৌশলকে বলা হয় ‘সামারসল্ট’।
স্পার্টাক কোস্ত্রোমার হয়ে খেলতে নেমেছিলেন মোহাম্মাদি, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল এসকেএ খাবারোভস্ক। ম্যাচের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি থ্রো-ইন পায় তাঁর দল। সাধারণ ফুটবলাররা যেভাবে দাঁড়িয়ে বা সামান্য দৌড়ে থ্রো-ইন করেন, মোহাম্মাদি হাঁটলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর পথে। বল হাতে দৌড়ে এসে সীমানারেখার কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিগবাজি দেন তিনি। শরীরের সেই গতি ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সজোরে বল ছুঁড়ে দেন প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে। তাঁর সেই আকস্মিক থ্রো সরাসরি চলে যায় গোলমুখের কাছাকাছি, আর সেখানে সুযোগসন্ধানী হেডে বল জালে জড়ান সতীর্থ আমুর কালমিকভ। এই দর্শনীয় গোলের ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহাম্মাদির দল।
মোহাম্মাদির এই অবিশ্বাস্য থ্রো-ইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেন ও ফুটবলপ্রেমীরা এই ইরানি ডিফেন্ডারের অসাধারণ ফিটনেস ও অ্যাক্রোবেটিক দক্ষতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
পেশাদার ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে মোহাম্মাদি প্রায় এক দশক জিমন্যাস্টিকস অনুশীলন করেছিলেন। নিজের এই বিশেষ কৌশল নিয়ে তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, "খেলায় আমার এই পটভূমিই আমাকে সামারসল্ট (ডিগবাজি) থ্রো তৈরি করতে সাহায্য করেছে।" মূলত ডিগবাজি দেওয়ার মাধ্যমে বলটি ছাড়ার মুহূর্তে বাড়তি গতিবেগ তৈরি হয়, যা থ্রো-ইনকে অস্বাভাবিক দূরত্বে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখে।
মতামত দিন