অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের জয় নিয়ে তুমুল আলোচনা
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে ক্রিকেটবিশ্বে যেন ভূমিকম্প হয়েছে। এই মহাকাব্যিক জয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম কেড়ে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। হাসান-তানজিদদের দৃঢ়তার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে ভিন্ন ভিন্নভাবে—কেউ লিখেছে ইতিবাচক সুরে, কেউ বলেছে অঘটন, আবার কেউ ধুয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। তবে নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের এই জয় নিয়ে কোনো সংবাদই জায়গা পায়নি। দেখে নেওয়া যাক, এই ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম কেমন ছিল।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা গণমাধ্যম ক্রিকেট ডটকম এইউ লিখেছে, ‘অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে শোচনীয়ভাবে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করছে বাংলাদেশ।’ তাদের আরেকটি সংবাদের শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশ কীভাবে ‘টপ এন্ডে’ এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করল।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এবিসি টাইগারদের এই জয় নিয়ে শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার অপ্রত্যাশিত পরাজয় দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা বিষয়গুলো নিয়ে এক বহু-প্রত্যাশিত আত্মসমীক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে।’
সিডনি মর্নিং হেরাল্ড শিরোনাম দিয়েছে, ‘বাংলাদেশের কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়ার ‘বাবল’ ভাঙার পর ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কামিন্স।’
নিউজিল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড অবশ্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের পর এই ম্যাচ নিয়ে আর কোনো সংবাদই প্রকাশ করেনি। প্রথম দিনে স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে করা একটি সংবাদই এখনো তাদের ক্রিকেট বিভাগের সবশেষ ও শীর্ষ খবরের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে।
ইংলিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাদেশের জয়কে বলেছে অঘটন—তাদের ভাষায়, এটি টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটন। বিবিসির শিরোনাম ছিল, ‘টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অঘটনে অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ।’
ডেইলি মেইল এই জয়ের সঙ্গে অ্যাশেজকে জুড়ে লিখেছে, ‘অস্ট্রেলিয়া এতদিন নিজেদের দুর্বলতাগুলো আড়াল করে রেখেছিল, কিন্তু বাংলাদেশের কাছে এই লজ্জাজনক পরাজয় সেসব দুর্বলতা সবার সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে। লরেন্স বুথ তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন, আগামী গ্রীষ্মের অ্যাশেজ সিরিজের ঠিক এক বছর আগে কেন ইংল্যান্ডের জন্য আশাবাদী হওয়ার কারণ থাকতে পারে।’
দ্য গার্ডিয়ান বাংলাদেশের জয়কে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়কেই শিরোনামে এনেছে। তারা লিখেছে, ‘বিশাল ব্যবধানে টেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ; চরমভাবে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া।’
রয়টার্সের শিরোনামও ছিল ইতিবাচক—‘অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট জয়ের কৃতিত্ব দুর্দান্ত বাংলাদেশের; গ্রিনের সেঞ্চুরি বৃথা।’
আলজাজিরা তুলনামূলক সাদামাটাভাবে শিরোনাম করেছে, ‘অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।’
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) লিখেছে, ‘প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের জয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ।’
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর শিরোনাম, ‘মেহেদীর পাঁচ উইকেটের সুবাদে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেল বাংলাদেশ।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও বাংলাদেশের এই জয়কে অঘটন বলছে। তাদের ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় অঘটন, লজ্জাজনক’—বাংলাদেশের কাছে হারের পর প্যাট কামিন্সের দলের ওপর চড়াও হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটাররা।
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা সাধারণত বাংলাদেশের জয়ে নেতিবাচক শিরোনাম করে থাকে। এবারও তারা বাংলাদেশের জয়কে ক্রিকেটের অন্যতম বড় অঘটন বলেছে। তাদের শিরোনাম, ‘“অসাধ্যসাধন” বাংলাদেশের! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অজিদের বিরুদ্ধে প্রথম জয়, ক্রিকেটের অন্যতম বড় অঘটন।’
ইতিবাচক শিরোনাম দেখা গেছে পাকিস্তানি গণমাধ্যমেও। দেশটির অন্যতম বড় সংবাদমাধ্যম ডন বাংলাদেশকে বলেছে অদম্য। তাদের শিরোনাম, ‘অদম্য বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়ল।’
মতামত দিন