নারী ও শিশুদের সহিংসতা রোধে বিশ্বের বিশেষজ্ঞদের সম্মেলন ব্যাংককে
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক, পেশাজীবী, তহবিলদাতা, ভুক্তভোগী ও অধিকারকর্মীদের অংশগ্রহণে আগামী মাসে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এসভিআরআই ফোরাম ২০২৬’।
আগামী ৫ থেকে ৯ অক্টোবর পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং অন্যান্য ধরনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে নতুন গবেষণা, বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ ও কার্যকর কৌশল নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে।
সম্মেলনের আয়োজন করছে যৌন সহিংসতা গবেষণা উদ্যোগ (এসভিআরআই)। সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে প্রিভেনশন কালেকটিভ। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে জাতিসংঘের যৌথ কর্মসূচি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ প্ল্যাটফর্ম। জাতিসংঘের কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে ইউএন উইমেন ও ইউএনএফপিএ। উভয় উদ্যোগই অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশেও নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হওয়ার সময়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সম্মেলন। চলতি বছরের মে মাসে ঢাকার পল্লবী এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দ্রুত বিচার এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়।
তবে কোনো একটি ঘটনা ঘিরে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হওয়ার পর সময়ের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনার বাইরে চলে গেলে কী ঘটে, সেটিও সম্মেলনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে। দীর্ঘমেয়াদে এমন কী ধরনের বিচার, সুরক্ষা ও প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, যা শুধু আলোচিত কোনো ঘটনার পর নয়, নিয়মিতভাবেই কার্যকর থাকবে—সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হবে।
সম্মেলনে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার পরিবর্তিত ও নতুন ধরন নিয়েও বিভিন্ন গবেষণা উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন নির্যাতন ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা; জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার সম্পর্ক; সহিংসতা প্রতিরোধে কোন উদ্যোগগুলো বাস্তবে কার্যকর এবং গবেষণার ফলাফল কীভাবে সরকারি নীতি ও বাস্তব কর্মসূচিতে প্রয়োগ করা যায়—এসব বিষয়।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতার নতুন প্রবণতা ও গবেষণার ফলাফল নিয়েও আলোচনা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় পাওয়া তথ্যকে কার্যকর নীতি ও কর্মসূচিতে রূপ দিতে গবেষক, মাঠপর্যায়ের কর্মী, নীতিনির্ধারক ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মেলনে সাংবাদিকদের জন্যও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, লিঙ্গ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও জননীতি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা মিডিয়ার জন্য উন্মুক্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি উপস্থিত গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার নিতে পারবেন।
তবে সম্মেলনে অংশ নিতে সাংবাদিকদের মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশন নিতে হবে। অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভ্রমণ বা অন্যান্য ব্যয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বহন করা হবে না।
সম্মেলনের আগে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় একটি অনলাইন মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাংবাদিকদের অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকেরা সাংবাদিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গবেষক ও গবেষণার বিষয় নির্বাচনেও সহায়তা করবেন।
মতামত দিন