Views Bangladesh Logo

বাবা-মায়ের ভালোবাসা পেতে কবিরাজকে ৬৬ লাখ টাকার সম্পদ দিল কিশোরী

বাবা-মায়ের ভালোবাসা হারানোর কাল্পনিক দুশ্চিন্তা থেকে একটি প্রতারক চক্রের জালে পা দিয়ে প্রায় ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ হারিয়েছে ১৩ বছরের এক কিশোরী। শেরপুর জেলার কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের মেয়ে স্কুলছাত্রী লুবাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয় একটি তান্ত্রিক চক্র। পিবিআইয়ের অভিযানে চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে। সেখানে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় লুবাবার। পরে ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে। লুবাবার মনে ভয় ঢুকেছিল, তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা হয়তো কমে যাচ্ছে।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র তাকে প্রলোভন দেখায় যে বিশেষ কবিরাজি চিকিৎসার মাধ্যমে বাবা-মাকে আবারও ‘আপন’ করে দেওয়া সম্ভব। এর অংশ হিসেবে কখনো খাসি কেনা, কখনো জায়নামাজ, আবার কখনো ‘জোড়া শুকর’ জবাইয়ের নাম করে বিভিন্ন দফায় কিশোরীর কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

গত ১০ মার্চ প্রতারণার মাত্রা আরও বাড়ে। ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে ওই কিশোরীর কাছ থেকে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

ঘটনা প্রকাশ পায় যখন কিশোরী পুনরায় টাকা পাঠাতে একটি বিকাশ দোকানে যায় এবং এজেন্টের সন্দেহ হলে পুরো বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। পুলিশকে জানানো হলে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই জামালপুর জেলা ইউনিট।

অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং পুলিশ সুপার পংকজ দত্তের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর ও ময়মনসিংহ থেকে চক্রের তিন সদস্য মুছা মিয়া, রফিকুল ইসলাম এবং মূলহোতা মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর মূলহোতা মনিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির পাশের বাগানে মাটি খুঁড়ে লুকিয়ে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনার বেশি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ধর্মীয় ও আবেগিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিল।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ