Views Bangladesh Logo

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যা: ঘাতকের পরিচয় শনাক্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় নিজ স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৫ জনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতের কোনো এক সময়ে রাউতকোনা গ্রামের মনির হোসেনের বাড়িতে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন—ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তার তিন মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

পুলিশ জানায়, মরদেহগুলো বাসার যে তিন স্থানে পড়ে ছিল, তার প্রতিটি জায়গায় মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো কোনো মামলার নথিপত্র। এছাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের বেশ কিছু আলামতও জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকত ফোরকান মিয়া। সেখান থেকে সে প্রাইভেটকার চালাত। শুক্রবার রাতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে শ্যালক, স্ত্রী ও সন্তানদের খাওয়ায় ফোরকান। একপর্যায়ে গভীর রাতে জানালার গ্রিলের সঙ্গে স্ত্রীর হাত-মুখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ঘুমিয়ে থাকা তিন মেয়ে ও শ্যালককেও একইভাবে হত্যা করে। পাঁচজনকে হত্যার পর সে পালিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। নিহতদের স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

ওসি আরও জানান, ঘাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘ঘাতক ফোরকান হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর ফোনকল করে একজনকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছি।’

পুলিশের ভাষ্যমতে, বাসার যে তিনটি স্থানে মরদেহগুলো পড়ে ছিল, প্রতিটি জায়গায় মরদেহের পাশে প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো কোনো মামলার নথিপত্র। এ ছাড়াও তল্লাশি চলাকালে মাদক সেবনের বেশ কিছু আলামতও জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

এদিকে নিহত শারমিনের চাচি ইভা রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য শারমিনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন ফোরকান। মাদক সেবন করেই ফোরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তার ধারণা।

বাড়ির মালিক মনির হোসেন জানান, শ্যালক রসুলকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনেছিলেন ফোরকান। তিনি বলেন, ‘শ্যালক রসুলকে ফোন করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে আনা হয়। এরপর তাকেসহ পাঁচজনকে খুন করে ফোরকান। এমন নৃশংস ঘটনা আমরা আগে কখনো দেখিনি।’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ