তিন দিন পর এক্সিলারেটরের টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু
তিন দিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে। একই দিন দুপুরে নতুন একটি এলএনজি কার্গোও টার্মিনালে এসে ভিড়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনালে আগে থেকে মজুত থাকা এলএনজি ব্যবহার করে শনিবার দুপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। নতুন কার্গো থেকে গ্যাস খালাস শুরু হতে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টায় দেশের দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। অর্থাৎ ছয় ঘণ্টায় এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট।
একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ১ হাজার ৬২১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে মোট সরবরাহ দুপুরে ছিল ২ হাজার ২০২ মিলিয়ন ঘনফুট। সন্ধ্যায় তা বেড়ে ২ হাজার ৩১১ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সে হিসাবে শনিবার সন্ধ্যায় চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ। ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট।
এর আগে গত বুধবার দুপুরের পর এক্সিলারেটরের টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে তখন জানানো হয়। ফলে শুধু সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬০ থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। এতে গ্যাসের সংকট আরও বেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় প্রভাব পড়ে।
শনিবার দুপুরে নতুন এলএনজি কার্গো এক্সিলারেটরের টার্মিনালে ভিড়লেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তা থেকে গ্যাস খালাস শুরু হয়নি। আরপিজিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত ১০টার দিকে নতুন কার্গো থেকে গ্যাস খালাস শুরু হতে পারে।
পেট্রোবাংলার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগের সমস্যার কারণে এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে একবারে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
এর আগে গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটরের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হয়। এরপর কারিগরি সমস্যা ও এলএনজি কার্গোর স্বল্পতার কারণে সেখানকার গ্যাস সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করে।
বর্তমানে দেশের দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। শনিবার সন্ধ্যায় সরবরাহ ছিল সক্ষমতার প্রায় ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ।
মতামত দিন