এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধে কমলো গ্যাস সরবরাহ
এলএনজি কার্গো না থাকায় মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বুধবার দুপুরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। টার্মিনালটির মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত সামিটের টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা এলএনজির শেষ মজুতও শেষ হয়ে যায়, এরপর থেকেই টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এলএনজির মজুত না থাকায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে দেশীয় কূপ থেকে এসেছিল ১ হাজার ৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৬৬১ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে সন্ধ্যা ৬টার দিকে এলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৫৬২ মিলিয়ন ঘনফুটে, একই সময়ে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬২৭ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস প্রবাহ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৮৯ মিলিয়ন ঘনফুটে।
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা, আর আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কোম্পানি আরপিজিসিএল। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কম দামে এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। এ মাসেই তার চারটি আসার কথা থাকলেও একটিও আসেনি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গোগুলো না আসায় সংকট আরও বেড়েছে বলে জানায় সূত্রটি। এখন টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশি কোম্পানি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলে সরবরাহ বাড়ে। তবে নতুন কার্গো না থাকায় পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করা এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সোমবার থেকেই সরবরাহ কমতে থাকে এবং তিন দিন পর বুধবার তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার মূল কারণ এলএনজি কার্গোর ঘাটতি। এর আগে টার্মিনালের বয়লার মেরামত নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এক্সিলারেট প্রথমে বয়লার চালু করতে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছিল। পরে বয়লার সচল হওয়ার কথা জানানো হলেও এর মধ্যে টার্মিনাল চালু রাখার মতো পর্যাপ্ত এলএনজি মজুত ছিল না। ফলে বয়লার সচল হওয়ার পরও এলএনজি কার্গোর অভাবে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। এক্সিলারেটের জন্য কার্গো ২৩-২৪ আগস্ট আসতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। অর্থাৎ আগামী কয়েক দিন এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকবে এবং গ্যাসের সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে দেওয়া হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট, যা এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিটের টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে যুক্ত হয়। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত শুক্রবার বিকেলে দুটি এলএনজি টার্মিনালই বন্ধ থাকলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে দৈনিক ১৬৪ কোটি ঘনফুটে। ওই দিন সন্ধ্যায় ৯ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু করে সামিট। সামিটের সরবরাহ বাড়ায় শনিবার ভোরে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুট হয়। রোববার সরবরাহ কমে ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার এক্সিলারেট বন্ধের পর গ্যাস সরবরাহ ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ঘনফুট, যা এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধের পর বুধবার ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এতে সারা দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।
মতামত দিন