Views Bangladesh Logo

পোশাককর্মীকে ধর্ষণ: ৯ দিনেও মামলা নেয়নি থানা, পুলিশের বিরুদ্ধে আপসের প্রস্তাবের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন ৪৪ বছর বয়সী এক পোশাককর্মী। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট রাতে বাড়ির মালিক কৌশলে তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী জামালপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়িতে ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের বয়স ৫০ বছর।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার বিচার চেয়ে চলতি মাসের ৯ তারিখ শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তদন্ত কর্মকর্তার পরামর্শে অভিযোগপত্র কয়েক দফা পরিবর্তন করেও মামলা করাতে পারেননি বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর ভাষ্য, মামলা করার জন্য তিনি থানায় নয়বার গেলেও প্রতিবারই তাকে সময়ক্ষেপণ করে ঘোরানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, গাজীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিষয়টি জানানো হলেও মামলা নেওয়ার আশ্বাসের পরও কোনো মামলা হয়নি। সর্বশেষ পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে অভিযুক্তের সঙ্গে আপস করার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তার। টাকা নিয়ে আপস করার পরামর্শ দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে—অভিযুক্তরা প্রভাবশালী, তারা ক্ষতি করতে পারে এবং আপস করাই ভালো—এমন কথা পুলিশ বলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র দেবনাথ ভুক্তভোগীর বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, ভুক্তভোগী নিজেই আপসের কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, গত ২৯ আগস্ট রাতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে ওই নারী ৯ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ করেন। এরপর তিনি এক দফা তার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন।

রাখাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আসামিকে আটকের পর মামলা রুজু করার জন্য তিনি ভুক্তভোগীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করতে না পেরে ভুক্তভোগী পরে আবার মামলা করতে থানায় আসেন বলেও দাবি করেন তিনি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। একটি অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র দেবনাথ বিষয়টি দেখছেন। ধর্ষণের ঘটনার বেশ কিছুদিন পর ওই নারী থানায় এসেছেন এবং আপসের কথাও বলেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, পুলিশ আপস করাতে পারে না।

এদিকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী নারী মামলা করতে চাইলে অবশ্যই মামলা রুজু করা হবে। কী কারণে এখনো মামলা হয়নি, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ