মেধা ও সুযোগের সমন্বয়ের অভাবে ক্রীড়াঙ্গন বিকশিত হচ্ছে না: শুক্লা
বাংলাদেশে ক্রীড়া প্রতিভার কোনো অভাব নেই, তবে মেধার সঙ্গে যথাযথ সুযোগের সংযোগ না হওয়ায় দেশের ক্রীড়াঙ্গন প্রত্যাশিতভাবে বিকশিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
শনিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ্-বাংলা অডিটোরিয়ামে ‘অলিম্পিক সলিডারিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস স্পোর্টস কোর্স’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে অনেক ক্রীড়া প্রতিভা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কিন্তু তাদের তুলে আনা, যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও অনুকূল পরিবেশ অনেক সময় তারা পায় না। ফলে মেধার সঙ্গে সুযোগের যথাযথ সমন্বয় হচ্ছে না।
তিনি বলেন, এ কারণে ক্রীড়া প্রশাসক, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও আন্তরিক, দক্ষ ও বিচক্ষণ হতে হবে। প্রতিভা খুঁজে বের করার পাশাপাশি তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়েদের ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গোড়ামী ও বাল্যবিবাহ এখনো বড় বাধা। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের আরও দৃঢ় ভূমিকা প্রয়োজন।
নারীদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনে ‘নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ নিয়োগ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে তাদের সাহস জোগানোর পাশাপাশি মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গত ১৯ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
প্রশিক্ষণ কোর্সে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন এবং বিভিন্ন সার্ভিসেস ফেডারেশনসহ মোট ৪১টি ইউনিটের ক্রীড়া প্রশাসকেরা অংশ নেন।
মতামত দিন