ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড পেজে জুয়ার বিজ্ঞাপন, হ্যাকের দাবি
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রকাশের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ধারাবাহিকভাবে একাধিক জুয়ার প্রচারণামূলক পোস্ট দেখা যায়। পরে পোস্টগুলো মুছে ফেলা হলেও আবার নতুন করে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ‘Aminul Haque’ নামের ভেরিফায়েড পেজ থেকে প্রথম জুয়ার বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। পরপর চারটি পোস্ট প্রকাশের পর সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও তিনটি নতুন বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। এসব পোস্টে ইংরেজি ও তুর্কি ভাষায় অনলাইন জুয়ার প্রচারণা চালানো হয়।
পরবর্তীতে পেজটি ডিঅ্যাক্টিভেট করা হয়।
ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দাবি করেন, তার ফেসবুক পেজ হ্যাক করা হয়েছে। তিনি বলেন, পেজটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, আমার এবং সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পেজ থেকে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পোস্টকে বিশ্বাস না করার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের দায়ভার প্রতিমন্ত্রীর নয়; বরং এটি তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে এবং সফল হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এদিকে, দেশের প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনের ২০ ধারায় জুয়ার পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস পরিচালনা, প্রচার কিংবা বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে কীভাবে পেজটি হ্যাক হয়েছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি প্রতিমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মতামত দিন