গাইবান্ধায় রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার
সারাদেশে আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রাম বিগ্রহ নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে (৩৬) অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।
রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার উত্তরা (পশ্চিম) থানায় দায়ের হওয়া একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, অভাবের সংসারে ৫ ভাই ও এক বোনের মধ্যে হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস ছিলেন চতুর্থ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর তিনি ভারতে চলে যান। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন এবং গ্রামের পুরোনো কালি মন্দিরের অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে গ্রামে বৈঠক করে হরিদাসকে সভাপতি ও বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি মন্দির কমিটি গঠিত হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো পাল্টে নতুন নামকরণ করা হয় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির। এরপর মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার রাম বিগ্রহ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গেল ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি।
ওলামা পরিষদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—কোনো বিদেশি রাষ্ট্র, সংস্থা বা ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অর্থায়ন, প্রভাব বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা।
এটিই হরিদাসের প্রথম গ্রেপ্তার নয়। এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র্যাবের যৌথ অভিযানে রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
সিআইডির ভাষ্য, হরিদাস ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। সিআইডি জেনেছে, হরিদাস ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গমন করে ‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ’ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন। তিনি ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।
এরপর থেকে হরিদাস বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন; বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদন করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া ফোন কল শোনাতেন।
মতামত দিন