গাইবান্ধার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেল রংপুরে
গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী–সাদুল্লাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমানকে অচেতন অবস্থায় রংপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতের দিকে রংপুর নগরীর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ক্যাডেট কলেজ এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের মহাসড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিজার রহমান মহাসড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। দীর্ঘ সময় সেখানে পড়ে থাকলেও প্রথমদিকে কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি।
আজিজার রহমান সাদুল্লাপুর উপজেলার ঘেগারবাজার খোদা বকস গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রজ্জব উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে।
উদ্ধার হওয়ার পর আজিজার রহমান জানান, তিনি গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান। এরপর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় আপিল শেষে রংপুরগামী পিংকী পরিবহন বাসে করে গাইবান্ধার উদ্দেশে রওনা দেন।
তিনি বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ এলাকায় বাস থামলে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে আমিও নামি। তখন পাশে বসা কয়েকজন যাত্রী আমাকে একটি সেদ্ধ ডিম খেতে দেন। ডিম খাওয়ার পর থেকে আর কিছু বুঝতে পারিনি।’
তার অভিযোগ, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে বাসের চালক ও সুপারভাইজার তাকে মৃত ভেবে রংপুর নগরের ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন এলাকায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় তার কাছে থাকা চার–পাঁচ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, শারীরিকভাবে তিনি খুবই দুর্বল ছিলেন এবং স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না।
রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকার বাসিন্দারা জানান, সারাদিন পথচারী ও স্থানীয়রা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বা গুরুতর অসুস্থ ভেবে উদ্ধারের উদ্যোগ নেননি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তাজহাট থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
আজিজার রহমানের বড় ছেলে আশিকুর রহমান বলেন, ‘বাবার সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। পরে ফোন ধরলে অচেনা লোকজন টাকা দাবি করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। রাত আড়াইটার দিকে বিকাশে দুই হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। এ ঘটনায় তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন।’
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে