জ্বালানি সংকটে মোংলা বন্দরে অচলাবস্থা, লাইটার জাহাজ বন্ধে বিপাকে আমদানিকারকরা
দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ে মারাত্মকভাবে অচলাবস্থায় পড়েছে মোংলা বন্দরের পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম। তেলের অভাবে শত শত লাইটার জাহাজ বন্ধ থাকায় বড় জাহাজ (মাদার ভ্যাসেল) থেকে পণ্য নামানো প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
পশুর নদীসহ মোংলা বন্দরের বিভিন্ন ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য খালি লাইটার জাহাজ নোঙর করে আছে। একই অবস্থা খুলনার রূপসা নদীসহ আশপাশের এলাকাতেও। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে সময়মতো পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এতে আমদানিকারকদের যেমন বড় অঙ্কের বিলম্ব জরিমানা গুনতে হচ্ছে, তেমনি কাঁচামাল সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
লাইটার জাহাজের মালিক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় তারা পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। অনেক জাহাজ এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে অলস পড়ে আছে।
খুলনার একটি সিমেন্ট কারখানার কর্মকর্তারা জানান, কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জরিমানা দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহও কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে কিছু কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
লাইটার মালিকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছে চাইলেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা বলছেন, ডিপো থেকেই চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহ সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের প্রভাবেও জ্বালানি প্রাপ্যতা কমে গেছে। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত আকারে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং উপকূলীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে