Views Bangladesh Logo

ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে জ্বালানি সংকট, বন্ধের পথে ১২ কারখানা

ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে অন্তত ১২টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যার ফলে প্রায় ৫০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জ্বালানি সংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন থমকে যাওয়ায় শ্রমিকদের এখন অলস সময় পার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে ৯৬টি প্লট নিয়ে এই শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে ২৭টি কারখানা চালু রয়েছে, যা এক সময় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক জ্বালানি সংঘাটতি এই সক্ষমতাকে তলানিতে নামিয়ে এনেছে।

কারখানা মালিক জামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘আমার কারখানায় প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন, কিন্তু সরবরাহ এখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে উৎপাদন বন্ধের পথে। কাজ ছাড়াই আমাদের শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’

আরেক মালিক ফাহিম খান জানান, তার কারখানায় মুড়ি, ময়দা, আটা এবং স্কুলের পুষ্টিসামগ্রী তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। আমরা সরকারকে অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জ্বালানি সংকটের প্রভাব কেবল উৎপাদনে নয়, পণ্য পরিবহনেও পড়েছে। অবিক্রীত বিপুল পরিমাণ পণ্য কারখানায় আটকা পড়ে আছে। অন্যদিকে, ক্রমাগত লোকসানের মুখে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা।

কারখানা শ্রমিক নোমান ও সোহাগ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, ‘কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল, তাই দ্রুত এর সমাধান চাই।’

ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ভোলার জেলা প্রশাসক ড. আজাদ জাহান বলেন, ‘উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কারখানা মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শিল্প নগরীটিকে সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।অপেক্ষায় আছেন ভোলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ