Views Bangladesh Logo

মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা, জ্বালানি সংকটে আটকে আছে লাইটার জাহাজ

  1. মোংলা বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটার জাহাজগুলো জ্বালানি তেলের সংকটে পড়ায় বন্দরের পণ্য খালাস কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত তেল না থাকায় লাইটার জাহাজগুলো বন্দরে নোঙর করা বড় বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন করতে পারছে না। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

    লাইটার জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, জ্বালানির অভাবে অধিকাংশ জাহাজ অলস পড়ে থাকায় মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত অবস্থান করায় জরিমানা হিসেবে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। এর ফলে আমদানিকৃত খাদ্যশস্য, সার এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

    জাহাজ মালিকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রামের ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা থেকে অল্প পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এই সংকট নিরসনে লাইটার জাহাজ মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে জাহাজগুলো ঘাটে আটকে রয়েছে।

    উল্লেখ্য, মোংলা বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। পরে এসব পণ্য নদীপথে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন ঘাটে পৌঁছে খালাস করা হয়।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে গত কয়েকদিন ধরে শত শত খালি লাইটার জাহাজ আটকে আছে। একই পরিস্থিতি খুলনা-রূপসা এলাকার চার ও পাঁচ নম্বর ঘাটেও। তেলের সংকটে এসব জাহাজ চলাচল করতে না পারায় বন্দরে লাইটার জাহাজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পণ্য খালাস না হওয়ায় শিল্পকারখানায় কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    এমভি আর রশিদ-১ লাইটার জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি তেল না পাওয়ায় বন্দরে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস করতে যেতে পারছি না। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পশুর নদীতে জাহাজটি আটকে আছে।’

    শেখ সিমেন্ট কারখানার এজিএম আজাদুল হক বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে বন্দরে থাকা জাহাজ থেকে কাঁচামাল কারখানায় আনা যাচ্ছে না। কাঁচামালের তীব্র অভাবে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকরাও কাজ না থাকায় বসে আছে।’

    মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মোংলার ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রকৌশলী প্রবীর হীরা বলেন, ‘আমরা ডিলারদের তেল সরবরাহের চেষ্টা করছি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রাপ্যতা কম থাকায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী বেশি দেওয়ার সুযোগ নেই।’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ