রোনালদোর ভক্ত থেকে রিয়ালের দুয়ারে ‘নতুন মেসি’ ইয়ান দিওমান্দে
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভক্ত হিসেবে বড় হওয়া আইভরি কোস্টের তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দে এখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে। শৈশবে প্রিয় ফুটবলারের জার্সি কেনার সামর্থ্য না থাকায় সাধারণ একটি টি-শার্টে কালো মার্কার দিয়ে ‘রোনালদো ৭’ লিখে খেলতেন তিনি। পরে স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেসে প্রথম অনুশীলন দেখেই এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমরা নতুন মেসিকে পেয়ে গেছি।’
ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, দিওমান্দের সঙ্গে ব্যক্তিগত চুক্তিতে পৌঁছে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। খুব শিগগিরই জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ থেকে তার বার্নাব্যুতে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে। সম্ভাব্য ট্রান্সফার মূল্য ধরা হয়েছে ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো, যার মধ্যে ১১৫ থেকে ১২০ মিলিয়ন ইউরো মূল ট্রান্সফার ফি এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষ বোনাস। এই অঙ্কে চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি হবে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফার। বর্তমানে ক্লাবটির সর্বোচ্চ ট্রান্সফার রেকর্ড এইডেন হ্যাজার্ডের (১১৫ মিলিয়ন ইউরো)। একই সঙ্গে দিওমান্দে হবেন রিয়ালের ইতিহাসের প্রথম আইভরিয়ান ফুটবলার।
মাত্র দেড় বছর আগেও ইউরোপীয় ফুটবলে প্রায় অচেনা ছিলেন দিওমান্দে। ২০২৫ সালের মার্চে চোট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্পেনে এসে লেগানেসের রিজার্ভ দলে যোগ দেন। অনুশীলনের শুরু থেকেই তার গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে মুগ্ধ হন কোচিং স্টাফ। পরে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষেই লা লিগায় অভিষেক হয় তার। এরপর ২০২৫ সালের জুনে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে দলে নেয় আরবি লাইপজিগ। প্রথম মৌসুমেই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে ১৫ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে বুন্দেসলিগার সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন তিনি। লিভারপুল ও পিএসজিও তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত রিয়ালই এগিয়ে যায়।
ফুটবল মাঠের সাফল্যের আড়ালে রয়েছে দিওমান্দের জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প। ১৫ বছর বয়সী বোন রোকসান এক পার্টিতে বিষাক্ত কিছু মিশ্রিত পানীয় পান করে মারা যান। বিশ্বকাপের আগে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে দিওমান্দে লিখেছিলেন, আজও তিনি জানেন না কেন এমনটি ঘটেছিল এবং এখনো মনে হয়, যদি বোনকে রক্ষা করতে পারতেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে ইকুয়েডরের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ১৯ বছর ২১২ দিন বয়সে মাঠে নেমে দেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ ফুটবলার হন দিওমান্দে। সেই ম্যাচেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। পরে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ডও গড়েন।
চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা দিওমান্দে একসময় খাবারের জন্য আলুও চুরি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। লেগানেসে খেলার সময় নিজের প্রায় পুরো বেতন পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। নিজের থাকার জায়গা ছিল অনুশীলন কেন্দ্রের একটি ছোট কক্ষ, যেখানে টেলিভিশনও ছিল না। তার ভাষায়, ‘আমার জীবন ছিল শুধু ফুটবল আর ঘুম। আমি আর ধনী হতে চাই না।’ সংগ্রাম থেকে উঠে এসে ইউরোপের অন্যতম আলোচিত তরুণ তারকায় পরিণত হওয়া দিওমান্দের রিয়াল মাদ্রিদে সম্ভাব্য যোগদান সেই অনন্য যাত্রারই নতুন অধ্যায়।
মতামত দিন