Views Bangladesh Logo

পর্দার এমজে থেকে জীবনের সঙ্গী: টম-জেন্ডায়ার এক দশকের প্রেমকাহিনি

গত বুধবার লন্ডনের লেস্টার স্কয়ারে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-র প্রিমিয়ারে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া। ক্যামেরার ঝলকানিতে জেন্ডায়ার আঙুলের বিয়ের আংটিটাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল। একসঙ্গে এটি তাঁদের চতুর্থ স্পাইডার-ম্যান ছবি—আর এবারই প্রথম, তাঁরা পর্দার বাইরেও স্বামী-স্ত্রী।

শুরুটা এক দশক আগে। ২০১৬ সালে ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’-এর শুটিং সেটে প্রথম দেখা। ব্রিটিশ অভিনেতা হল্যান্ডের বয়স তখন ২০, মার্কিন অভিনেত্রী জেন্ডায়ার ১৯। ছবিতে হল্যান্ড পিটার পার্কার, আর জেন্ডায়া তাঁর কিছুটা খামখেয়ালি, বুদ্ধিদীপ্ত সহপাঠী মিশেল জোন্স-ওয়াটসন—দর্শকের কাছে যিনি এমজে।

পর্দায় দুজনের রসায়ন প্রথম ছবিতেই স্পষ্ট ছিল। সঙ্গে সঙ্গে গুঞ্জনও শুরু হয়। তবে দুজনেই তখন হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন, বলেছেন তাঁরা কেবলই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একবার টুইটারে জেন্ডায়া লিখেছিলেন, ‘সবচেয়ে মজার লাগে যখন লেখে আমরা একসঙ্গে ছুটি কাটাতে যাই—হা! আমি তো বছরের পর বছর ছুটিতেই যাইনি! তুমি গেছ, টম?’ হল্যান্ডের জবাব ছিল, ‘প্রেস ট্যুরগুলো কি ধরা যায়?’

২০১৯ সালের ‘ফার ফ্রম হোম’-এ পিটার আর এমজে ইউরোপ সফরে গেল, আর পর্দায় এল তাদের প্রথম চুম্বন। এরপর ২০২১ সালের গ্রীষ্মে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার ছবি ছড়িয়ে পড়ে, আর ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটে। সে বছরই ‘নো ওয়ে হোম’-এর প্রচারে জেন্ডায়া হাজির হন মাকড়সার জালের নকশা করা পোশাকে—যে পোশাক-ভাবনা পরে তাঁর ট্রেডমার্ক হয়ে ওঠে।

তারপর কয়েক বছর ধরে চলেছে আংটি নিয়ে জল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বানানো ভুয়া বিয়ের ছবির ভাইরাল হওয়া, আর দুজনের নিরুত্তাপ নীরবতা। ২০২৫ সালে বাগদানের খবর আসে। অবশেষে গত জুনে ৩০ বছর বয়সী হল্যান্ড নিজেই জানিয়ে দেন—তাঁরা বিয়ে করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখার ব্যাপারে দুজনেই বরাবর সতর্ক। তবু মাঝেমধ্যে ছোট ছোট কথা বেরিয়ে আসে। ২০২৪ সালে হল্যান্ড বলেছিলেন, অবসরে তাঁদের প্রিয় কাজ হলো পুরোনো স্পাইডার-ম্যান ছবিগুলো আবার দেখা—‘জেন্ডায়া আর আমি মাঝেমধ্যেই প্রথম স্পাইডার-ম্যান দেখি, আর ১৯ বছর বয়সে ওই ছবিগুলো বানানোর দিনগুলোর কথা মনে করি।’

লন্ডনের প্রিমিয়ারে স্বামীর সঙ্গে কাজ করা নিয়ে ২৯ বছর বয়সী জেন্ডায়ার সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘যখন কেউ আপনার সবচেয়ে ভালো বন্ধু, তখন কাজটা সহজ হয়ে যায়।’ হল্যান্ডের কথায় আবেগ আরেকটু বেশি, ‘এত ব্যস্ততা, এত দেশে ঘোরা, ছবি বানানোর চাপ—মাঝেমধ্যে সব মিলিয়ে দমবন্ধ লাগে। ওর মতো করে আমাকে আর কেউ শান্ত করতে পারে না।’

শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ‘নো ওয়ে হোম’-এর ঘটনার চার বছর পরের গল্প, যেখানে সবার স্মৃতি থেকে নিজেকে মুছে ফেলা পিটার পার্কার একেবারে একা। শিগগিরই ‘দ্য ওডিসি’ ছবিতেও একসঙ্গে দেখা যাবে দুজনকে।

তবে ভক্তদের কাছে—যাঁরা তাঁদের আদর করে ডাকেন ‘টমডায়া’—এই জুটি চিরকাল পিটার আর এমজেই থেকে যাবে।



মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ