জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষত না শুকাতেই ফের কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও কেঁপে উঠেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। নতুন এই কম্পনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও কয়েক দিন আগের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর আতঙ্কে দিন কাটানো মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দেশটির উত্তর উপকূলে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি নতুন ভূমিকম্প আঘাত হানে। শনিবার (২৭ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার মারাকাই ও কারাকাসেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তরাঞ্চলের মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী কারাকাসসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে উত্তর-মধ্য ভেনেজুয়েলায়। গত ১২৫ বছরের মধ্যে এটিই দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে রাজধানী কারাকাস, লা গুয়াইরাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ১৭২ জন জীবিত আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বজনদের খোঁজে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও ধ্বংসস্তূপের পাশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ।
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে উদ্ধারকাজের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে, যাতে উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।
এদিকে উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিজ উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই কোদাল, লোহার রড কিংবা খালি হাতেই উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। আহতদের হাসপাতালে নিতে ব্যক্তিগত গাড়িকেই অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।
ধ্বংসস্তূপের নিচে নিজের ছয় বছর বয়সী সন্তানসহ পাঁচ স্বজন আটকে থাকার কথা জানিয়ে ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস বলেন, উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, কিন্তু বড় বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। ভেতরে এখনও অনেক মানুষ জীবিত থাকতে পারেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় এই দুর্যোগের মধ্যে নিখোঁজদের তথ্য আদান-প্রদান সহজ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) বন্ধ থাকলেও বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতে এবং উদ্ধার তৎপরতায় সমন্বয় করতে সুবিধা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
মতামত দিন