শহীদ তাজুলের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণেরা
চাঁদপুরের মতলবের বদরপুর গ্রামে শহীদ তাজুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুক্রবার ‘আমার প্রিয় বাংলাদেশ’ সংগঠনের উদ্যোগে ‘বাঙালি জাতিসত্তার অভিযাত্রা: সাহস এবং আত্মত্যাগ’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সেখানে যান।
সকাল ৮টায় রাজধানীর জিরো পয়েন্টে শহীদ নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় কর্মসূচি। এরপর অংশগ্রহণকারীরা চাঁদপুরের মতলবের বদরপুর গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে শহীদ তাজুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও সালাম জানান তারা। পরে পালন করা হয় এক মিনিটের নীরবতা।
শহীদ তাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বি.এ. (সম্মান) ও এম.এ. সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি আদমজী পাটকলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও যুক্ত হন তিনি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত হন তাজুল ইসলাম।
কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান, ডা. আহাদ, প্রকৌশলী উত্তম কুমার দাস, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অলক দাশগুপ্ত, নাট্য নির্মাতা সাইফউদ্দিন আহমদ, সংগঠক ইদ্রিস আলী, উন্নয়নকর্মী সমাপিকা হালদার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক ও গণমাধ্যমকর্মী রুশো রকিবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন।
সমাধি প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজি শহীদ তাজুল ইসলাম ও তার সহধর্মিণী শহীদ জায়া নাসিমা ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি শহীদ নূর হোসেনের সাহস ও আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান শহীদ তাজুল ইসলামের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মত্যাগের বিষয়ে অনুসন্ধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কর্মসূচির শুরুতে রুশো রকিব উপস্থিত ব্যক্তিদের পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের আহ্বান জানান এবং আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
আয়োজকেরা জানান, বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশ, সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন করে অনুসন্ধান করে তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
মতামত দিন