Views Bangladesh Logo

স্কুল কমিটির নির্বাচন নিয়ে ‘দ্বন্দ্বের’ জেরে মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা

স্কুল কমিটির নির্বাচন নিয়ে ‘দ্বন্দ্বের’ জেরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, চৌদ্দগ্রামের কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়েই দুজনের মূল দ্বন্দ্ব। ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন করেছিলেন আবুল হাসেম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে কাজ করেছিলেন আবদুল হাই কানু। তখন থেকেই দুজনের মধ্যে শত্রুতা তৈরি হয়।

গতকাল রোববার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুকে (বীরপ্রতীক) গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়।

আবদুল হাই কানু ঘটনাস্থলের পাশের লুদিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও একই সংগঠনের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক সহসভাপতি এবং বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তার পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত নেতা কুলিয়ারা গ্রামের প্রবাসী আবুল হাসেমের নেতৃত্বে একই গ্রামের ফরহাদ,অহিদ, রাসেল, বেলাল, পেয়ার, ইসমাইল, ফারহান, নয়নসহ ১০-১২ জন তাকে লাঞ্ছিত করেন। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

এ-সংক্রান্ত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কেন জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হলো?

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় আবুল হাসেমের ভাই আবদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি আবদুল হাই কানুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে বলেন, কানু আমার ভাইকে বিদ্যালয়ের নির্বাচনের সময়ে লাথি মেরে পুকুরে ফেলে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার ২৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে। এমনকি আমার ঘর নির্মাণের সময় ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

জসিম উদ্দিন নামে কুলিয়ারা গ্রামের একজন বলেন, আবদুল হাই কানুর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব নেই। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি রাজনৈতিক নয়। এলাকার ভুক্তভোগী কিছু যুবক এটা করেছে। কানু কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের প্রার্থী আবদুল হালিম মজুমদারকেও লাথি মেরে পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি আমাকেও লাঞ্ছিত করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হাই কানুর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে বাতিসা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও লাঞ্ছিত মুক্তিযোদ্ধা কানুর ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের লোকজন জড়িত। তারা এখন সাফাই গাইছে।

তিনি বলেন, আমার বাবা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে ৯টি হয়রানিমূলক মামলা হয়। তিনি দশ বছর পর বাড়ি ফিরেছেন। আমার বাবা অনেক অসুস্থ, তাকে এভাবে লাঞ্চিত করায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বর্তমানে একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কারো সাথে কথা বলছেন না। আমি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আমির অ্যাডভোকেট. মু. শাহজাহান, জেলা সেক্রেটারি ড. সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমির মু. মাহফুজুর রহমান ও উপজেলা সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন যুক্ত বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ভাব-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করায় সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও আবুল হাসেমসহ অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করছি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ