Views Bangladesh Logo

হাত জোড় করেও মব থেকে রক্ষা পাননি মুক্তিযোদ্ধা ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

অলাভজনক ও জনস্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে ঘিরে মব, দখল ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, হাত জোড় করে অনুরোধ করেও তিনি মব পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাননি। পরিকল্পিতভাবে তাকে অপমান করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

জাতীয় একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এছাড়াও মবের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে।

ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলতে থাকে। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট সাভারের মূল কার্যালয়ে অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে একটি মব পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ করে একদল লোক প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ করে আমাকে এবং পরিচালক ডা. মাহবুব জুবায়েরকে পদত্যাগে চাপ দিতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাত জোড় করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। তবে তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

তার দাবি, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাকে ঘিরে রেখে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। শেষ পর্যন্ত জোরপূর্বক একটি লিখিত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়।

ঘটনার সময় প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ডা. নাজিমউদ্দিন। তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ‘ঊর্ধ্বতন নির্দেশ’ থাকার কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেননি। মবকারীদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ডা. নাজিমউদ্দিন আরও দাবি করেন, তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ছিল। কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও শিরিন হকসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন। মবের সময় তাকে গ্রেপ্তার বা বের করে দেওয়ার মতো নির্দেশনা ফোনে শোনা গেছে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার সময় একটি লিখিত পদত্যাগপত্রে তাকে স্বাক্ষর করানো হয়, যেখানে লেখা ছিল তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। তবে ডা. নাজিমউদ্দিন এটিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ চাপের মুখে নেওয়া সিদ্ধান্ত।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওইদিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত একদল লোক তাকে ঘিরে রাখে এবং বারবার পদত্যাগের চাপ দেয়। পুরো সময় তিনি অসহায়ের মতো পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় নথিপত্র তছনছ, আলমারি ভাঙচুর এবং কিছু সামগ্রী হারানোর ঘটনাও ঘটে।

ডা. নাজিমউদ্দিনের অভিযোগ, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি দখলের চেষ্টা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।

বর্তমানে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কাঠামো পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ