বিনামূল্যে সিম কিনেই মামলার আসামি!
বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে একটি চক্র। তাদের কাছ থেকে সিম নেওয়ার পর এখন বিপাকে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের বহু পরিবার।
অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অজান্তেই একাধিক সিম নিবন্ধন করে নেওয়ায় অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে পড়ছেন।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা, মোহাম্মদপুর ও চিলারং ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি প্রতারকচক্র। তারা বিশেষ করে নারী ও সহজ-সরল গ্রামীণ মানুষদের টার্গেট করে। এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে বিনামূল্যে একটি সিম ও ১০৫ টাকা রিচার্জ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে সিম নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একটি সিম দেওয়ার কথা বললেও গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করে নেয় চক্রটি। ফলে যারা একটি সিম নিয়েছেন, তাদের অনেকের এনআইডিতে অজান্তেই ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত সিম নিবন্ধিত হয়ে গেছে।
এসব অতিরিক্ত সিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট সিম যার নামে নিবন্ধিত, তাকেই আইনি জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।
আকচা এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা জানান, বিনামূল্যে সিমের প্রলোভনে পড়ে তার মা, ভাবি ও বোন সিম নিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, তাদের এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করা হয়েছে। এখন পরিবারের সদস্যদের নামে কয়েকটি সিম সক্রিয় থাকায় তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
একই এলাকার নুর নাহার বেগম জানান, তিনি একটি সিম কিনলেও পরে জানতে পারেন তার এনআইডিতে আরও কয়েকটি নম্বর নিবন্ধিত রয়েছে। অনেকেই মামলার আসামি হয়ে যাওয়ার খবর শুনে তিনি ভীত হয়ে পড়েছেন। অতিরিক্ত নম্বর বাতিল করতে কাস্টমার কেয়ারে গেলেও কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী সাদিকুল জানান, তার স্ত্রী একটি সিম নেওয়ার কিছুদিন পর পুলিশ বাড়িতে এসে মামলার বিষয়টি জানায়। এতে পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং মামলার বিষয়ে জানতে ঢাকায় যেতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী সোলেমান বলেন, একই ঘটনায় তার স্ত্রীও একটি মামলার আসামি হয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার কক্সবাজার যেতে হয়েছে, এতে পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছে।
সমাধানের আশায় অনেকেই সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারে গেলেও সেখানে কার্যকর সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কাস্টমার কেয়ারের পক্ষ থেকে নিবন্ধিত সিম বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয় জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে রবি টেলিকম কোম্পানির কর্পোরেট কমিউনিকেশন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আগেও পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। এতে কোম্পানির কোনো কর্মী জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে