ফ্রান্স ১ - মরক্কো ০
ফ্রান্স-মরক্কো ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা
৫২ মিনিট | কর্নার পেল মরক্কো, ফ্রান্সের রক্ষণে চাপ বাড়ানোর সুযোগ
দ্বিতীয়ার্ধের ৫২তম মিনিটে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্নার আদায় করে নেয় মরক্কো। মাইকেল অলিসেকে রক্ষণে নেমে বল ক্লিয়ার করতে বাধ্য করলে কর্নারের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।সেট পিস থেকে ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলার বড় সুযোগ এখন মরক্কোর সামনে। প্রথমার্ধে আক্রমণে খুব বেশি দেখা না গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তারা কিছুটা বেশি আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে। অন্যদিকে কর্নারের এই পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করবে ফ্রান্স।
৪৬ মিনিট | দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু
বিরতি শেষে শুরু হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ। প্রথম ৪৫ মিনিটে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে না পারা ফ্রান্স এবার আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে মাঠে নেমেছে। এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস ও উপামেকানো এবং দোয়ের সুযোগ নষ্ট করার হতাশা কাটিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে তারা। অন্যদিকে প্রথমার্ধে দুর্দান্ত রক্ষণ আর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ পারফরম্যান্সে সমতা ধরে রাখা মরক্কো এবারও একই পরিকল্পনায় এগোতে পারে। তবে পাল্টা আক্রমণ থেকে সুযোগ পেলেই ফ্রান্সকে চাপে ফেলতে চাইবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
বিরতি | প্রথমার্ধে গোলশূন্য ফ্রান্স-মরক্কো
প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বেজে গেছে। গোলের দেখা না মিললেও নাটকীয়তার কমতি ছিল না। বিরতিতে ০-০ সমতায় মাঠ ছেড়েছে ফ্রান্স ও মরক্কো। পুরো প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স, কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্ট করায় কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে ২৫তম মিনিটে, যখন বক্সের ভেতরে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। তবে ২৮তম মিনিটে স্পটকিক থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ডান পায়ের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এরপরও দায়ো উপামেকানো ও দেজিরে দোয়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলে হতাশা বাড়ে ফরাসি শিবিরে।
অন্যদিকে মরক্কো রক্ষণে ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী। গোলরক্ষক বুনুর দুর্দান্ত সেভ এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে গোলবঞ্চিত রাখতে সক্ষম হয়েছে আফ্রিকার দলটি। তবে আক্রমণভাগে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি মরক্কো। বল দখল ও আক্রমণে পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হয়েছে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স গোলের খোঁজে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মরক্কো চাইবে রক্ষণে দৃঢ়তা বজায় রেখে পাল্টা আক্রমণ থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে।
৪৫ মিনিট | প্রথমার্ধে যোগ হলো ৫ মিনিট
নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষ হতেই অতিরিক্ত ৫ মিনিট যোগ করার ঘোষণা দেন চতুর্থ রেফারি। প্রথমার্ধজুড়ে ফাউল, পেনাল্টি এবং খেলা বন্ধ থাকার সময় বিবেচনায় এই অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমার্ধের বাকি এই পাঁচ মিনিট দুই দলের জন্যই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া ফ্রান্স বিরতিতে যাওয়ার আগে এগিয়ে যাওয়ার শেষ চেষ্টা চালাবে। অন্যদিকে এমবাপ্পের পেনাল্টি রুখে আত্মবিশ্বাসী মরক্কো সমতা ধরে রাখার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণ থেকে চমক দেওয়ার সুযোগ খুঁজবে।
৩৯ মিনিট | সালিবার ফাউলে আবারও ফ্রি কিক পেল মরক্কো
ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে প্রতিপক্ষের বিপজ্জনক আক্রমণ থামাতে গিয়ে ফাউল করেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। দ্রুত এগিয়ে যাওয়া দিয়াজকে অবৈধভাবে ফেলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে আরেকটি ফ্রি কিকের সুযোগ পায় দিয়াজের দল। ম্যাচের এই পর্যায়ে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণগুলো বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, আর ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
৩০ মিনিট | হাইড্রেশন ব্রেক, স্কোর: ফ্রান্স ০-০ মরক্কো
৩০তম মিনিটে হাইড্রেশন ব্রেকের জন্য খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করেন রেফারি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। দুই দলই দ্রুত বল দখল করে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় এখন পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি। মাঝমাঠের দখল নিয়ে লড়াই, একের পর এক ফাউল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনার কমতি নেই।
প্রথম দিকে ইসমাইল এল আইনাউইয়ের ফাউলে ফ্রি কিক পায় ফ্রান্স। এরপর নবম মিনিটে দোয়ের ফাউলে লুইস দিয়াজের দল (ম্যাচের আপডেট অনুযায়ী) আরেকটি ফ্রি কিক আদায় করে। ১৪তম মিনিটে লুকাস ডিগনের ফাউলেও প্রতিপক্ষ একটি ফ্রি কিক পেলেও সেটি থেকে কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ২৫ থেকে ২৮ মিনিটের মধ্যে। বক্সের ভেতরে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। ২৮তম মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক অসাধারণ দক্ষতায় তার ডান পায়ের শট রুখে দিয়ে দলকে নিশ্চিত গোল খাওয়া থেকে বাঁচান। এই সেভে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় মরক্কো, আর ফ্রান্স বড় একটি সুযোগ নষ্ট করে হতাশ হয়।
২৮ মিনিট | এমবাপ্পের পেনাল্টি রুখে দিলেন গোলরক্ষক
ম্যাচের ২৫তম মিনিটে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। তিন মিনিট পর স্পটকিক নিতে এগিয়ে যান দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ২৮তম মিনিটে ফ্রান্সের নিশ্চিত গোলের স্বপ্ন ভেঙে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক। এমবাপ্পের ডান পায়ের জোরালো শটের দিক ঠিকই আন্দাজ করে দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। ফলে বড় সুযোগ হাতছাড়া করে গোলশূন্যই থাকে ম্যাচের স্কোরলাইন। এই অসাধারণ সেভে নতুন উদ্দীপনা পেয়েছে মরক্কো, আর ফ্রান্সকে এখন গোলের খোঁজে আরও আক্রমণাত্মক হতে হবে। ম্যাচের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
১৪ মিনিট | লুকাস ডিগনের ফাউলে নষ্ট হলো ফ্রি কিকের সুযোগ
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ফাউল করেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস ডিগনে। রেফারির বাঁশিতে প্রতিপক্ষ একটি ফ্রি কিক পেলেও সেটি থেকে কোনো বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে ফ্রি কিকের সুযোগটি নষ্ট হয়ে যায়। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই মাঝমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শারীরিক ফুটবল খেলছে। এতে একের পর এক ফাউল হচ্ছে, আর ম্যাচের উত্তেজনাও বাড়ছে।
৯ মিনিট | দিয়াজকে ফাউল, ফ্রি কিক পেল কলম্বিয়া
ম্যাচের নবম মিনিটে লুইস দিয়াজকে ফাউল করে বসেন দোয়ে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই খেলা থামিয়ে ফাউলের বাঁশি বাজান এবং দিয়াজের দল কলম্বিয়াকে একটি ফ্রি কিকের সিদ্ধান্ত দেন। ম্যাচের শুরু থেকেই মাঝমাঠে শারীরিক লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে। দুই দলই বলের দখল নিতে কঠোর চ্যালেঞ্জে নামায় ফাউলের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে।
২ মিনিট | ম্যাচের শুরুতেই ফাউল, ফ্রি কিক পেল কোনে'র দল
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই প্রথম ফাউলের ঘটনা। মাঝমাঠে ইসমাইল এল আইনাউইয়ের চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান কোনে। সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজিয়ে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ফলে ম্যাচের শুরুতেই একটি ফ্রি কিকের সুযোগ পায় কোনে'র দল। প্রথম থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, মাঝমাঠের দখল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র লড়াই।
প্রথম মিনিট | ফ্রান্স-মরক্কোর খেলা শুরু
রেফারির প্রথম বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল শেষ আটের প্রথম লড়াই। সেমি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে দুই দল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে উভয় পক্ষ। এখন দেখার বিষয়, শুরুতেই কে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে প্রথম আঘাত হানতে পারে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল শেষ আটে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
ফ্রান্স ও মরক্কো এখন পর্যন্ত মোট ছয়বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। ফ্রান্সের জয়: ৪টি, ড্র: ২টি। মরক্কোর জয়: নেই। অর্থাৎ, দুই দলের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে ফ্রান্স। ছয় দেখায় চারটিতে জিতেছে লে ব্লু, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে মরক্কো।
ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল (অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস)
অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৬১.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা ১৬.২ শতাংশ। এছাড়া, ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে অমীমাংসিত থেকে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২২.১ শতাংশ বলে ধারণা করছে অপ্টার মডেল।
একাদশ:
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দলে নেই ইসমাইল সাইবারি। এছাড়া রেদোয়ানে হালহালকে বেঞ্চে রেখে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। আটলাস লায়ন্সের হয়ে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন চেমসদিন তালবি ও আনাস সালাহ-এদ্দিন।
মরক্কোর একাদশ:
ইয়াসিন বুনু (গোলরক্ষক); আশরাফ হাকিমি (অধিনায়ক), ইসা দিয়প, নুসাইর মাজরাউই, আনাস সালাহ-এদ্দিন; আয়্যুব বুয়াদ্দি, নেইল এল আয়নাওই; চেমসদিন তালবি, আজ্জেদিন উনাহি, বিলাল এল খান্নুস; ব্রাহিম দিয়াজ।
ফ্রান্স:
ব্র্যাডলি বারকোলাকে বেঞ্চে রেখে একাদশে জায়গা পেয়েছেন দেজিরে দুয়ে। রাউন্ড অব ১৬-এর আগে উরুর অ্যাডাক্টর পেশিতে চোট পাওয়ায় অরেলিয়েন চুয়ামেনি এবারও শুরুর একাদশে নেই। তিনি বেঞ্চ থেকেই ম্যাচ শুরু করবেন।
ফ্রান্সের একাদশ:
মাইক মেনিয়ান (গোলরক্ষক); জুল কুন্দে, দায়ো উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, লুকা দিন; মানু কোনো, আদ্রিয়েন রাবিও; উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিজে, দেজিরে দুয়ে; কিলিয়ান এমবাপ্পে (অধিনায়ক)
শেষ চারের স্বপ্নে আজ মুখোমুখি ফ্রান্স ও মরক্কো
২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে (বোস্টন স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।
টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলেই জয় নিশ্চিত করে দিদিয়ের দেশমের দল। অন্যদিকে শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ আটে ওঠে মরক্কো। গ্রুপ পর্বেও ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র এবং হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় আটলাস লায়ন্সরা। ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি আগ্রহের কারণ, এটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি। সেবার মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। যদিও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় লে ব্লুজরা।
চলতি বিশ্বকাপে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে খেলছে ফ্রান্স। গতি, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুতগতির আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজ ও আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে গড়া আক্রমণভাগ ফ্রান্সের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তায় রয়েছে মরক্কো। দলের অন্যতম উইঙ্গার ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে চোট পাওয়ার পর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। মরক্কো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা অনিশ্চিত। সাইবারির অনুপস্থিতি হলে আক্রমণভাগে বড় ধাক্কা খেতে পারে মরক্কো।
এদিকে ম্যাচ পরিচালনা করবেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রেফারি ফাকুন্দো তেলো। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গাব্রিয়েল চাদে। চতুর্থ কর্মকর্তা দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিস্টিয়ান নাভারো।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে দুই দলই। ফ্রান্স পাঁচ ম্যাচে ১৪ গোল করেছে, যার সাতটিই এসেছে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের পা থেকে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তিনি এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মরক্কো আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে। কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে টেকনিক্যাল দক্ষতা, শারীরিক সামর্থ্য ও কৌশলগত শৃঙ্খলার সমন্বয়ে শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে মরক্কো। তবে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও নিজের দলকে নিয়ে আশাবাদী।
সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াইকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।
দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবল বিশ্ব উপভোগ করতে যাচ্ছে এক ব্লকবাস্টার লড়াই। সেমিফাইনালে ওঠার মহাযুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স এবং আফ্রিকার গর্ব মরক্কো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেই বহুল আলোচিত সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে চলা এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ২টায় আমেরিকার বোস্টনের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে। বিশ্বমঞ্চের শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার এই লড়াইয়ে দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম, হেড-টু-হেড রেকর্ড এবং ইনজুরি আপডেট ম্যাচটিকে বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
চলতি বিশ্বকাপে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়ার পর শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফরাসিল দল। রক্ষণাত্মক প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলই সে যাত্রায় ব্যবধান গড়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে, সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ আটে পা রেখেছে মরক্কোও। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র এবং হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর, শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আটলাস লায়ন্সরা। নতুন কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে ডিফেন্স ও কাউন্টার অ্যাটাকে দারুণ ভারসাম্য দেখাচ্ছে মরক্কো।
মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস
মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অফিসিয়াল ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচে মরক্কোর তুলনায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স জয় পেয়েছে ৪টিতে, মরক্কো জিতেছে মাত্র ১টিতে এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। গোল ব্যবধানেও এগিয়ে আছে ফরাসিরা। দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৮৮ সালে। এরপর ১৯৯৮ সালের হাসান দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মরক্কো একমাত্র জয়টি তুলে নেয়। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ফ্রান্স। সর্বশেষ বিশ্বকাপে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ফ্রান্স ২-০ গোলে হারিয়ে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ করেছিল। সেই ম্যাচটি ছিল দুই দলের একমাত্র বিশ্বকাপের লড়াই, যা এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তবে পরিসংখ্যান যতই ফ্রান্সের পক্ষে থাকুক, বর্তমান মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আফ্রিকার শক্তিধর দলটি টানা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে এবং ইতোমধ্যেই নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো দলকে বিদায় জানিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সও সুইডেন ও প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে। ফলে অতীতের রেকর্ড ফ্রান্সের পক্ষে থাকলেও বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই।
ফ্রান্সের শক্তির জায়গা
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। গতিময়, সৃজনশীল ও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। দলের নেতৃত্বে আছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই ৭ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন। অসাধারণ গতি, ড্রিবলিং, এক বনাম এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা এবং নিখুঁত ফিনিশিং তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ফরোয়ার্ডদের একজন করে তুলেছে।
এমবাপ্পের পাশাপাশি ফ্রান্সের আক্রমণে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন উসমান দেম্বেলে। দুই প্রান্তে সমান দক্ষ এই উইঙ্গার গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের জানান দিয়েছেন। তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে সবসময় চাপে রাখে। মাঝমাঠে অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারের মিশ্রণে ফ্রান্স দ্রুত আক্রমণে উঠতে পারে, আবার প্রয়োজন হলে বলের দখল ধরে রেখেও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। শক্তিশালী রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ফরাসিদের আরও ভয়ংকর প্রতিপক্ষে পরিণত করেছে।
মরক্কোর শক্তির জায়গা
মরক্কো এখন আর শুধুই চমক দেখানো দল নয়; তারা ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দলটির সবচেয়ে বড় ভিত্তি তাদের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ। গোলপোস্টের নিচে আছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু, যিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ সব সেভ করে দলকে বারবার রক্ষা করেছেন। পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতা এবং ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা মরক্কোর অন্যতম বড় সম্পদ।
রক্ষণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিএসজির তারকা ফুলব্যাক আশরাফ হাকিমি। ডান প্রান্তে তার গতি, ট্যাকল, ওভারল্যাপিং রান এবং আক্রমণে অবদান মরক্কোর খেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। মাঝমাঠে আজেদিন উনাহি দলের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন। বল ধরে রাখা, দ্রুত পাস দেওয়া এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত কার্যকর। নতুন কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে মরক্কো আরও আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে। রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার কৌশলই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এবারের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো প্রমাণ করে, মরক্কো এখন যে কোনো পরাশক্তিকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।
ফ্রান্স বনাম মরক্কো একাদশ ফর্মেশন ও লাইনাপ বিশ্লেষণ
আজকের ম্যাচে দুই দলই মাঠে নামছে হাই-অ্যাটাকিং এবং ভারসাম্যপূর্ণ ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। গোলপোস্ট ও রক্ষণভাগে দুই দলেই থাকছেন বিশ্বসেরা সব তারকা। নিচে দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ তুলে ধরা হলো:
ফ্রান্সের একাদশ
গোলরক্ষক: মাইক মেইগনান; ডিফেন্ডার: দায়োত উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, জুলেস কুন্দে, লুকা দিনিয়ে; মিডফিল্ডার: আদ্রিয়েন রাবিও, মানু কোনে, মাইকেল অলিস; ফরোয়ার্ড: কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলো, ব্র্যাডলি বারকোলা।
মরক্কোর একাদশ
গোলরক্ষক: ইয়াসিন বুনু; ডিফেন্ডার: আশরাফ হাকিমি, ইশাদ দিওপ, শাদি রিয়াদ, নুসাইর মাজরাউই; মিডফিল্ডার: আজজেদিন উনাহি, আয়ুব বুয়াদ্দি, নীল এল আয়নায়ুই; ফরোয়ার্ড: সুফিয়ান রাহিমি, ব্রাহিম দিয়াজ, বিলাল এল খানোস।
মতামত দিন