ফ্রান্স ০ - স্পেন ১
ফ্রান্স-স্পেন ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা
৪৫+৪ মিনিট | অতিরিক্ত সময়ে বিপজ্জনক ফ্রি কিক পেল ফ্রান্স
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আক্রমণে উঠে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্রি কিক আদায় করেছে ফ্রান্স। জুল কুন্দে নিজের শরীর দারুণভাবে ব্যবহার করে স্পেনের মিডফিল্ডার অ্যালেক্স বায়েনার কাছ থেকে ফাউল আদায় করেন।
ফলে স্পেনের রক্ষণভাগের সামনে বিপজ্জনক অবস্থান থেকে সেট পিসের সুযোগ পায় ফরাসিরা। বিরতিতে যাওয়ার আগে সমতাসূচক গোলের আশায় এই ফ্রি কিককে কাজে লাগাতে চাইবে ফ্রান্স, আর লিড অক্ষুণ্ন রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্পেনের রক্ষণ।
৪৫ মিনিট | প্রথমার্ধে যোগ হলো ৬ মিনিট
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আরও ৬ মিনিট যোগ করেছেন চতুর্থ কর্মকর্তা। পেনাল্টি, হাইড্রেশন বিরতি, ফাউল এবং খেলা বারবার থেমে যাওয়ায় এই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্সের সামনে বিরতিতে যাওয়ার আগে সমতায় ফেরার এটাই শেষ সুযোগ। অন্যদিকে, মিকেল ওয়ারজাবালের পেনাল্টি গোলের সুবাদে পাওয়া লিড অক্ষুণ্ন রেখে ড্রেসিংরুমে ফিরতে মরিয়া স্পেন। শেষ ছয় মিনিটে তাই দুই দলই সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।
৪২ মিনিট | আবারও কর্নার পেল ফ্রান্স, রক্ষণে দুর্দান্ত কুবারসি
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতাসূচক গোলের খোঁজে আক্রমণের গতি বাড়িয়েছে ফ্রান্স। সেই চেষ্টায় আরেকটি কর্নার আদায় করেছে তারা। তবে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসি আবারও অসাধারণ রক্ষণ সামলেছেন। ফরাসি আক্রমণ শেষ মুহূর্তে ঠেকিয়ে বল কর্নারের বিনিময়ে বাইরে পাঠান তিনি। পুরো ম্যাচজুড়েই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স করে স্পেনের রক্ষণভাগের ভরসায় পরিণত হয়েছেন কুবারসি।
৩৭ মিনিট | অল্পের জন্য ব্যবধান বাড়াতে পারল না স্পেন
স্পেন আরেকটি সুন্দর আক্রমণ গড়ে তুলে দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ে জোরালো শট নেন পেদ্রো পোরো। তবে তার দূরপাল্লার প্রচেষ্টায় যথেষ্ট বাঁক না থাকায় বল বাম পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। ফলে ১-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থাকে স্পেন, আর অল্পের জন্য সমতায় ফেরার আরও বড় চাপ থেকে রক্ষা পায় ফ্রান্স।
৩৪ মিনিট | অফসাইডে বাঁচল ফ্রান্স, পেনাল্টির দাবি নাকচ
স্পেনের হয়ে আরেকটি দারুণ আক্রমণ গড়ে ওঠে ৩৪ মিনিটে। বক্সের সামনে ক্লিয়ার করা বল পেয়ে শট নেওয়ার চেষ্টার সময় অ্যালেক্স বায়েনা ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁর চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান। মুহূর্তেই স্পেনের খেলোয়াড়রা পেনাল্টির দাবি তোলেন।
তবে রেফারি পেনাল্টি দেননি। কারণ আক্রমণের শুরুতেই সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন। ফলে সম্ভাব্য পেনাল্টির নাটকীয়তা শেষ হয়ে যায় এবং বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় ফ্রান্স।
৩১ মিনিট | হলুদ কার্ড দেখলেন কুকুরেয়া, বিপজ্জনক ফ্রি কিক পেল ফ্রান্স
ম্যাচের ৩১ মিনিটে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেছেন স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। ফ্রান্সের আক্রমণ থামাতে কৌশলী ফাউল করায় কোনো দ্বিধা না করে তাকে সতর্ক করেন রেফারি। এই ফাউলের সুবাদে প্রতিপক্ষের অর্ধে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি কিকের সুযোগ পেয়েছে ফ্রান্স। গোল শোধের লক্ষ্যে সেট পিস থেকে সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে দিদিয়ের দেশমের দল, আর স্পেন চাইবে শক্ত রক্ষণ গড়ে এই চাপ সামাল দিতে।
২৪ মিনিট | হাইড্রেশন ব্রেক, কৌশল বদলের সুযোগ ফ্রান্সের
ম্যাচের ২৪ মিনিটে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতির জন্য খেলা সাময়িকভাবে থামিয়েছেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে মিকেল ওয়ারজাবালের গোলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্সের জন্য এই বিরতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে নতুন কৌশল সাজানোর সুযোগ পাচ্ছে দিদিয়ের দেশমের দল। অন্যদিকে, লিড ধরে রাখতে নিজেদের পরিকল্পনা আরও নিখুঁত করার চেষ্টা করছে স্পেন।
২২ মিনিট | ওয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে স্পেন
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ম্যাচের প্রথম গোল তুলে নিল স্পেন। ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল।লামিনে ইয়ামাল আদায় করা পেনাল্টির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করেন স্পেনের এই ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে সেমিফাইনালে প্রথম রক্ত ঝরান তিনি। গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য এখন আক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে হবে ফ্রান্সকে। অন্যদিকে, মূল্যবান এই লিড ধরে রেখে ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চাইবে স্পেন।
২০ মিনিট | পেনাল্টি পেল স্পেন, ইয়ামালের দারুণ মুভে চাপে ফ্রান্স
ম্যাচের ২০ মিনিটে বড় সুযোগ পেয়ে গেল স্পেন। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ফ্রান্সের রক্ষণ ভেদ করে বক্সে ঢুকে পড়েন লামিনে ইয়ামাল। তাকে থামাতে গিয়ে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার, সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে ম্যাচের প্রথম গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গেছে স্পেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানালেও রেফারি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এখন স্পেনের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ।
১০ মিনিট | ভ্যানিশিং স্প্রে ভুলে যাওয়ায় ফ্রি কিক নিতে সাময়িক বিলম্ব
ম্যাচের ১০ মিনিটে এক অদ্ভুত ঘটনার কারণে কিছুক্ষণের জন্য খেলা থেমে যায়। ফ্রি কিক নেওয়ার প্রস্তুতির সময় দেখা যায়, রেফারি তার ভ্যানিশিং স্প্রে সাইডলাইনে রেখে এসেছেন। বাধ্য হয়ে স্প্রে আনতে অপেক্ষা করতে হয়, এরপরই পুনরায় খেলা শুরু হয়। স্বল্প সময়ের এই বিরতিতে খেলোয়াড়রা নিজেদের অবস্থান গুছিয়ে নেন। পরে রেফারি স্প্রে ব্যবহার করে দেয়াল ঠিক করে দিলে ফ্রি কিকের মাধ্যমে আবারও ম্যাচে গতি ফিরে আসে।
৯ মিনিট | হলুদ কার্ড দেখলেন রাবিও
ম্যাচের শুরুতেই প্রথম হলুদ কার্ড দেখলেন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিও। স্পেনের আক্রমণ থামাতে ইচ্ছাকৃত ফাউল করায় রেফারি কোনো দ্বিধা না করে তাকে সতর্ক করেন। শুরুতেই হলুদ কার্ড পাওয়ায় বাকি ম্যাচে রাবিওকে আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। কারণ আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই মাঠ ছাড়তে হতে পারে ফরাসি এই মিডফিল্ডারকে।
৬ মিনিট | কর্নার পেল ফ্রান্স, স্পেনের রক্ষণে প্রথম চাপ
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে ফ্রান্স। প্রতিপক্ষের রক্ষণে দারুণ চাপ সৃষ্টি করে কর্নার আদায় করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসি ফরাসি আক্রমণ থামাতে শেষ মুহূর্তে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে কর্নার দিতে বাধ্য হন। সেট পিস থেকে প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি করতে মরিয়া ফ্রান্স, আর কর্নার সামলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ স্পেনের সামনে।
খেলা শুরু | স্পেনের কিক-অফে শুরু সেমিফাইনালের মহারণ
রেফারির প্রথম বাঁশির সঙ্গে শুরু হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল। কিক-অফ করে খেলা শুরু করেছে স্পেন। শুরু থেকেই নিজেদের ডিফেন্স লাইনে দ্রুত পাস আদান-প্রদানের মাধ্যমে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে লা রোহা।
অন্যদিকে, ফ্রান্সও শুরু থেকেই শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থান নিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা নিয়ে খেলছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির মধ্যে শুরু থেকেই জমে উঠেছে ট্যাকটিক্যাল দ্বৈরথ।
ফ্রান্স বনাম স্পেন: মধ্যরাতেই টেক্সাসে চূড়ান্ত ফয়সালা
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্ব পৌঁছে গেছে তার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বাঁকে। শেষ চারের লড়াইয়ে আজ প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল-পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায়, যুক্তরাজ্যের সময় রাত ৮টায়, আর বাংলাদেশ সময় রাত একটায় অর্থাৎ কার্যত আজ মধ্যরাতে। ফুটবলবোদ্ধাদের একটা বড় অংশ এই ম্যাচটিকেই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ বলে অভিহিত করছেন। কারণ একদিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারালো আক্রমণভাগ, অন্যদিকে সবচেয়ে সুদৃঢ় রক্ষণভাগ; দুইয়ের সংঘাত দেখতেই মুখিয়ে আছে ফুটবলবিশ্ব।
পরিসংখ্যানের আয়নায় দুই দল
স্পেন এই বিশ্বকাপে ছয়টি ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মাত্র সাতটি শট মোকাবিলা করেছে, যেখানে এমেরিক লাপোর্ত, উনাই সিমন ও রদ্রি গড়ে তুলেছেন রক্ষণভাগের মূল ভিত্তি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল কতটা নিয়ন্ত্রিত ও সংগঠিত ফুটবল খেলছে এই আসরে। অন্যদিকে দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্স ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে। এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬টি গোল করেছে ফ্রান্স, যা অংশগ্রহণকারী যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। কিলিয়ান এমবাপ্পে একাই করেছেন আট গোল, যা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। তার সঙ্গী উসমান দেম্বেলে করেছেন পাঁচ গোল, আর মিশেল ওলিসের নামের পাশে পাঁচটি অ্যাসিস্ট; এই বিশ্বকাপে যা সর্বোচ্চ।
কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দলই দেখিয়েছে নিজেদের সামর্থ্যের প্রতিচ্ছবি। ফ্রান্স মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোলে, যেখানে জোড়া নায়ক এমবাপ্পে ও দেম্বেলে। অন্যদিকে স্পেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে জিতেছে ২-১ গোলে, ৮৮তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর নাটকীয় জয়সূচক গোলে। এই একটি ঘটনাই যেন দুই দলের চরিত্র বলে দেয়; ফ্রান্স আক্রমণে ধারাবাহিক, স্পেন সংকটে দৃঢ়। মধ্যমাঠেও কম আকর্ষণীয় নয় লড়াইটা। ফ্রান্সের মূল মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি চোটে পড়লেও তাতে দলের কাঠামোয় তেমন ধাক্কা লাগেনি, কারণ আদ্রিয়েন রাবিও ও মানু কোনে দারুণভাবে মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। প্রয়োজনে বদলি হিসেবে প্রস্তুত আছেন দেজিরে দুয়ে ও ব্র্যাডলি বারকোলার মতো খেলোয়াড়ও, যারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
স্পেন শিবিরে সবচেয়ে স্বস্তির খবর, চোট কাটিয়ে ছন্দে ফিরছেন ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। আগের ম্যাচে তার খেলায় প্রতিভার ঝলক দেখা গেলেও পুরোপুরি ফিট ছিলেন না তিনি। কোচ দে লা ফুয়েন্তে বিশেষভাবে নির্ভর করছেন তার ওপর, ঠিক যেভাবে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ফ্রান্সের বিপক্ষে জাদু দেখিয়েছিলেন এই তরুণ। রক্ষণে এমেরিক লাপোর্ত ও পাউ কুবার্সির জুটি অসাধারণ ফর্মে আছে; ছয় ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন। আর দীর্ঘ চোটের ধকল কাটিয়ে মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রক রদ্রিও এখন পুরোপুরি ম্যাচ-ফিট।
পূর্বাভাস অনুযায়ী পরিসংখ্যানও কিছুটা এগিয়ে রাখছে ফ্রান্সকে। অপ্টার সুপারকম্পিউটারের হিসাবে নির্ধারিত সময়ে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৪২.১ শতাংশ, স্পেনের সম্ভাবনা ৩১.৮ শতাংশ, এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৬.১ শতাংশ।
শতাব্দীর দ্বন্দ্ব, তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ
এই ম্যাচ ঘিরে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো, স্পেন ১৭ বার এবং ফ্রান্স ১৬ বার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও, আজকের সেমিফাইনালই হবে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে দুই দলের মধ্যে মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথমবার তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে, জার্মানির হ্যানোভারে। সেই ম্যাচটি ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ এটি ছিল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের বিদায়ী বিশ্বকাপ আসর। স্পেন গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও ফ্রান্স গ্রুপ পর্বে কিছুটা হোঁচট খেয়ে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নকআউটে উঠেছিল। ডেভিড ভিয়ার পেনাল্টি গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন, কিন্তু ফ্রাঙ্ক রিবেরির সমতাসূচক গোলের পর প্যাট্রিক ভিয়েরা ও শেষে জিদান নিজে গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন ফ্রান্স। জিদানের বিদায়ী মঞ্চে সেই জয় আজও ফরাসি ফুটবল-স্মৃতিতে অমলিন।
সামগ্রিক পরিসংখ্যানে অবশ্য স্পেনের পাল্লাই ভারী। এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ বারের সাক্ষাতে স্পেনের জয় ১৮টি, ফ্রান্সের ১৩টি, বাকি সাতটি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্র দিয়ে। তবে এই ব্যবধানের বড় অংশ তৈরি হয়েছিল দ্বৈরথের একেবারে শুরুর দিকে। ১৯২২ সালের ৩০ এপ্রিল দুই দলের প্রথম সাক্ষাতে বোর্দোতে স্পেন জিতেছিল ৪-০ গোলে, এবং এরপর টানা প্রথম আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই জিতেছিল স্পেন; সবকটিই ছিল প্রীতি ম্যাচ। সেই সময়ের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার ছিল ১৯২৯ সালে, যখন স্পেন সারাগোসায় ৮-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ফ্রান্সকে, আর তার চার বছর পর প্রথমবার স্পেনের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পায় ফ্রান্স। দীর্ঘ ৬১ বছর ধরে (১৯২২-১৯৮৩) দুই দলের সবকটি সাক্ষাৎই ছিল নিছক প্রীতি ম্যাচ, প্রতিযোগিতামূলক কোনো আবহ তাতে ছিল না।
প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা হয় ১৯৮৪ সালে, যখন দুই দল প্রথমবার মুখোমুখি হয় কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে। প্যারিসের পার্ক দে প্রাঁসে অনুষ্ঠিত সেই ইউরো ৮৪-এর ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্স মুখোমুখি হয়েছিল স্পেনের, যারা তখন দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বাধীন ফ্রান্স ছিল তখন ইউরোপের সবচেয়ে ফর্মে থাকা দল, আর তারা কাউকে ছাড় দেয়নি। প্রায় গোলশূন্য থাকা ম্যাচে ঘণ্টাখানেক আগে ফ্রি-কিক আদায় করে নেন বার্নার্ড লাকোম্ব, আর সেই ফ্রি-কিক থেকে প্লাতিনির নেওয়া নিচু শট গোলরক্ষক লুইস আরকোনাদার হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ব্রুনো বেলোনের আরেকটি গোলে ফ্রান্স জেতে ২-০ ব্যবধানে, আর এই জয়ই ছিল স্বাগতিক দেশ হিসেবে ফরাসিদের প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা। সেই হারের পর দীর্ঘ ২৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল স্পেনকে পরবর্তী কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার জন্য; অবশেষে যেটা আসে ইউরো ২০০৮-এ।
সেই পরাজয়ের রেশ দীর্ঘদিন টেনে বেড়িয়েছে স্পেন। ১৭ বছর ধরে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি তারা, শেষমেশ ২০০১ সালে এক প্রীতি ম্যাচে জিতে সেই দীর্ঘ খরা কাটায় স্পেন। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পাল্লা ঘুরতে থাকে স্পেনের দিকে। ২০০৬ সালের পর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের ১১টি সাক্ষাতের মধ্যে সাতটিতেই জিতেছে স্পেন, যার মধ্যে রয়েছে ইউরো ২০১২ এবং ইউরো ২০২৪-এর জয়ও। তবে একটা বিষয় লক্ষণীয়; বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্স কখনো স্পেনের কাছে হারেনি, যদিও ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে আর কখনো মুখোমুখিও হয়নি তারা।
সাম্প্রতিক স্মৃতি: যন্ত্রণা আর প্রতিশোধের অপেক্ষা
ফরাসি সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে টাটকা ক্ষতটি সম্ভবত ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনাল, যা আজকের ম্যাচের ঠিক আগে বারবার আলোচনায় ফিরে আসছে। সেই ম্যাচে রঁদাল কোলো মুয়ানির গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হয়নি ফ্রান্সের, লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় স্পেন, এবং সেই টুর্নামেন্টেই পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
তারপর গত বছরের নেশনস লিগ সেমিফাইনালে দেখা যায় আরও নাটকীয় এক লড়াই। জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্পেন প্রথমে ৪-০ এবং পরে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ফ্রান্স অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ব্যবধান কমিয়ে আনে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৫-৪ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে স্পেনই। এমন উঁচু-নিচু স্কোরলাইন আসলে দুই দলের রক্ষণাত্মক সক্ষমতার সঙ্গে বেমানান, যা মূলত ব্যাখ্যা করা যায় সেদিনের একাদশ নির্বাচনের কারণে।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক পাঁচ সাক্ষাতের চারটিতেই এগিয়ে স্পেন, আর শেষ দুই ম্যাচেই সরাসরি নায়কের ভূমিকায় ছিলেন লামিন ইয়ামাল। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ইতিহাস থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট; এই ম্যাচ কোনো একঘেয়ে রক্ষণাত্মক লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং এটি এমন এক ম্যাচ হতে পারে, যা নির্ধারিত হবে ব্যক্তিগত মুহূর্তের জাদুতে, একটানা ৯০ মিনিটের নিয়ন্ত্রণে নয় এবং অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যেহেতু সাম্প্রতিক এই সংঘাতগুলোর বেশিরভাগই নির্ধারিত হয়েছে এক গোল বা তারও কম ব্যবধানে।
যা দাঁড়িয়ে আছে আজ রাতে
আজকের ম্যাচের জয়ী দল পা রাখবে আগামী রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনালে। সেখানে প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড, যাদের নিজেদের সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বুধবার আটলান্টায়—যা আবার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উত্তপ্ত এক দ্বৈরথ। ফরাসিদের সামনে সুযোগ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার, ২০১৮ সালের বিশ্বজয় ও ২০২২ সালের রানার্সআপ হওয়ার পর। আর স্পেনের সামনে সুযোগ—বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই দলের বর্তমান স্কোয়াডের একটা বড় অংশই খেলেছে ইউরো ২০২৪-এ, যেখানে স্পেনের ষোলোজন এবং ফ্রান্সের পনেরোজন খেলোয়াড় এখনো দলে আছেন। ফলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি প্রতিশোধ—কোন গল্পটা লেখা হবে আজ রাতে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
এমবাপ্পে বনাম ইয়ামাল, আক্রমণের ঝড় বনাম রক্ষণের প্রাচীর, তারুণ্যের আবেগ বনাম অভিজ্ঞতার নিয়ন্ত্রণ—আজ মধ্যরাতে ডালাসের সবুজ গালিচায় একই সঙ্গে ফয়সালা হবে এই সবকিছুরই।
ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল
শুরুর একাদশ
১৬ এম. মাইনিয়াঁ (গোলরক্ষক), ৫ জে. কুন্দে (রক্ষণভাগ), ১৭ ডব্লিউ. সালিবা (রক্ষণভাগ), ৪ ডি. উপামেকানো (রক্ষণভাগ), ৩ এল. দিনিয়ে (রক্ষণভাগ), ৮ এ. চুয়ামেনি (মধ্যমাঠ), ১৪ এ. রাবিও (মধ্যমাঠ), ৭ ও. দেম্বেলে (মধ্যমাঠ), ১১ এম. ওলিসে (মধ্যমাঠ), ১২ বি. বারকোলা (মধ্যমাঠ), ১০ কে. এমবাপ্পে (আক্রমণভাগ)।
বদলি খেলোয়াড়/ বিকল্প বেঞ্চ
১ বি. সাম্বা, ২ এম. গুস্তো, ৬ এম. কোনে, ৯ এম. থুরাম, ১৩ এন. কান্তে, ১৫ আই. কোনাতে, ১৮ ডব্লিউ. জাইরে-এমেরি, ১৯ টি. এর্নান্দেস, ২০ ডি. দুয়ে, ২১ এল. এর্নান্দেস, ২২ জে. মাতেতা, ২৩ আর. রিসের, ২৪ আর. শের্কি, ২৫ এম. আকলিউশে, ২৬ এম. লাক্রোয়া।
কোচ: দিদিয়ে ক্লদ দেশম
স্পেন জাতীয় ফুটবল দল
শুরুর একাদশ
২৩ উনাই সিমন (গোলরক্ষক), ১২ পেদ্রো পোরো (রক্ষণভাগ), ২২ পাউ কুবার্সি (রক্ষণভাগ), ১৪ এমেরিক লাপোর্ত (রক্ষণভাগ), ২৪ এম. কুকুরেয়া (রক্ষণভাগ), ১৬ রদ্রি (মধ্যমাঠ), ৮ ফাবিয়ান রুইজ (মধ্যমাঠ), ১৯ লামিন ইয়ামাল (মধ্যমাঠ), ১০ দানি ওলমো (মধ্যমাঠ), ১৫ আলেক্স বায়েনা (মধ্যমাঠ), ২১ মিকেল ওইয়ারসাবাল (আক্রমণভাগ)।
বদলি খেলোয়াড়/ বিকল্প বেঞ্চ
১ দাভিদ রায়া, ২ মার্ক পুবিল, ৩ আলেহান্দ্রো গ্রিমাল্দো, ৪ এরিক গার্সিয়া, ৫ মার্কোস ইয়োরেন্তে, ৬ মিকেল মেরিনো, ৭ ফেরান তোরেস, ৯ গাভি, ১১ ইয়েরেমি পিনো, ১৩ হোয়ান গার্সিয়া, ১৭ নিকো উইলিয়ামস, ১৮ মার্তিন সুবিমেন্দি, ২০ পেদ্রি, ২৫ ভিক্তোর মুনিয়োস, ২৬ বোর্হা ইগলেসিয়াস।
কোচ: লুইস দে লা ফুয়েন্তে কাস্তিয়ো
মতামত দিন