ফ্রান্স ০ - প্যারাগুয়ে ০
ফ্রান্স- প্যারাগুয়ে ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা
৪৫+৪ মিনিট | বিরতিতে গোলশূন্য সমতা
প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজিয়ে বিরতিতে পাঠিয়েছেন রেফারি। তীব্র গরমে খেলোয়াড়দের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন এক লড়াইয়ের সাক্ষী হয়েছে ফিলাডেলফিয়ার মাঠ। শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আদ্রিয়েন রাবিওকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা।
বিশেষ করে প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে ফরাসিদের চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। দেম্বেলের নিখুঁত ক্রস থেকে এমবাপ্পে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেলেও ডিয়েগো গোমেজের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। এরপর রাবিওর দূরপাল্লার শটও প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা শরীর দিয়ে আটকে দেন। প্রতিটি আক্রমণে আত্মত্যাগী রক্ষণে দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়ে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে তেমন কোনো বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। প্রচণ্ড গরমের কারণে প্রথমার্ধে হাইড্রেশন ব্রেকও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়সহ ৪৫+৪ মিনিটের লড়াই শেষে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে গেছে দুই দল।
৪৫ মিনিট | প্রথমার্ধে যোগ হলো ৩ মিনিট, প্যারাগুয়ে ০-০ ফ্রান্স
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও আক্রমণের ঝড় তোলে ফ্রান্স। মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিও দূর থেকে জোরালো শট নিলেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা নিজেদের শরীর সামনে রেখে তা প্রতিহত করেন। ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছে না ফরাসিরা। নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষে প্রথমার্ধে আরও ৩ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেছেন রেফারি।
৩১ মিনিট | দারুণ সুযোগ নষ্ট! এমবাপ্পের নিশ্চিত গোল বাঁচালেন গোমেজ
ম্যাচের সেরা সুযোগটি পেয়েও গোল করতে পারেনি ফ্রান্স। ডান প্রান্ত থেকে উসমান দেম্বেলে নিখুঁত এক ক্রস ভাসিয়ে দেন পেনাল্টি বক্সে। বলটি পেয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে প্যারাগুয়ের ডিয়েগো গোমেজের সূক্ষ্ম কিন্তু কার্যকর ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন ফরাসি অধিনায়ক। ফলে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি এমবাপ্পে। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দুর্দান্ত রক্ষণ সামলেছে প্যারাগুয়ে।
২৩ মিনিট | হাইড্রেশন ব্রেক, প্যারাগুয়ে ০-০ ফ্রান্স
তীব্র গরমের কারণে ম্যাচে সাময়িক বিরতি দিয়েছেন রেফারি। বিরতি বাঁশি বাজতেই দুই দলের খেলোয়াড়রা দ্রুত সাইডলাইনে ছুটে যান। ডাগআউটের ছায়ায় দাঁড়িয়ে বরফে ঠান্ডা তোয়ালে গলায় জড়িয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করছেন তারা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দুই দল। হাইড্রেশন ব্রেকে স্কোর প্যারাগুয়ে ০-০ ফ্রান্স।
১৯ মিনিট | ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখলেন বারকোলা
ম্যাচের ১৯ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রান্সের উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা। বল দখলের লড়াইয়ে সময়জ্ঞান হারিয়ে অসতর্ক ট্যাকল করায় কোনো দ্বিধা না করে তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে এলেও মাঠের লড়াই ছিল বেশ তীব্র। এই কার্ডের পর বাকি সময় বারকোলাকে আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হবে, যাতে দ্বিতীয় হলুদ দেখে দলকে বিপদে ফেলতে না হয়।
প্রথম মিনিট | প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে লড়াই শুরু
ফিলাডেলফিয়ায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেই শুরু হয়েছে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ। শুরুতেই বল পেয়ে মাইকেল ওলিজে সেটি টাচলাইনের বাইরে পাঠিয়ে দেন, তবে সেটি ছিল মাঠের ছায়াযুক্ত পাশে। তীব্র গরমে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। শুরু থেকেই আবহাওয়া দুই দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নকআউট ম্যাচে জয়ী দল নিশ্চিত করবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামলেও, আগের রাউন্ডে জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় দিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল প্যারাগুয়ে আরেকটি অঘটনের স্বপ্ন দেখছে।
রক্ষণদুর্গ বনাম আক্রমণের ঝড়: একাদশ ঘোষণা ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের
ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভানিয়ায় অবস্থিত লিংকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে শুরুর একাদশ ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। শক্তিশালী ফ্রান্স আক্রমণভাগে তাদের সেরা তারকাদের নিয়ে মাঠে নামছে, আর প্যারাগুয়ে বেছে নিয়েছে পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণাত্মক কৌশল।
ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা
গ্রুপ পর্বে দাপটের সঙ্গে শীর্ষে থেকে এবং শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটি আজও আক্রমণাত্মক ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে মাঠে নামছে। কোচ দিদিয়ের দেশম মাঝমাঠে আদ্রিয়েন রাবিওর সঙ্গে মানু কোনোকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফলে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার অরেলিয়েন চুয়ামেনি শুরু করছেন বদলি বেঞ্চ থেকে। এটি ফরাসি একাদশের সবচেয়ে বড় চমক।
আক্রমণভাগে থাকছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাকে সহায়তা করবেন উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিজে এবং ব্র্যাডলি বারকোলা। এই চারজনের গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। রক্ষণে উইলিয়াম সালিবা ও দায়ো উপামেকানোর জুটি এবং গোলবারের নিচে মাইক মেনিয়াঁ ফ্রান্সকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক কৌশল
টুর্নামেন্টে অন্যতম চমকপ্রদ দল প্যারাগুয়ে। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারলেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে তারা। এরপর শেষ ৩২-এর ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের অন্যতম সেরা সাফল্যের একটি অর্জন করেছে।
ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণ সামলাতে কোচ গুস্তাভো আলফারো বেছে নিয়েছেন রক্ষণাত্মক ৫-৪-১ ফর্মেশন। গোলরক্ষক অরলান্ডো গিলের সামনে থাকবেন হুয়ান কাসেরেস, গিলবার্তো ভেলাসকেস, গুস্তাভো গোমেস, ওমার আলদেরেতে ও জুনিয়র আলোনসো। পাঁচ ডিফেন্ডারের এই দেয়াল ভেঙে গোল করা ফ্রান্সের জন্য সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মাঝমাঠে আন্দ্রেস কুবাস ও দিয়েগো গোমেসের সঙ্গে খেলবেন মাতিয়াস গালার্সা ও মিগেল আলমিরন। সাম্প্রতিক চোট কাটিয়ে একাদশে ফিরেছেন তরুণ ফরোয়ার্ড হুলিও এনসিসো। একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে তাকে ঘিরেই প্যারাগুয়ের পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াই
ফিলাডেলফিয়ার এই নকআউট লড়াইয়ে হারের কোনো সুযোগ নেই। জয়ী দল সরাসরি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। সেখানে আগামী ৯ জুলাই তাদের প্রতিপক্ষ হবে মরক্কো, যারা শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। ফলে আজকের ম্যাচটি শুধু শেষ আটে ওঠার নয়, মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করারও লড়াই।
ফ্রান্সের পূর্ণাঙ্গ একাদশ (৪-২-৩-১): মাইক মেনিয়াঁ; জুল কুন্দে, দায়ো উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, লুকা দিনিয়ে; মানু কোনো, আদ্রিয়েন রাবিও; উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিজে, ব্র্যাডলি বারকোলা; কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ফ্রান্সের বিকল্প খেলোয়াড়: ব্রিস সাম্বা, বেঞ্জামিন পাভার, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, মার্কাস থুরাম, এন'গোলো কান্তে, ইব্রাহিমা কোনাতে, ওয়ারেন জাইরে-এমেরি, থিও হার্নান্দেজ, দেজিরে দুয়ে, লুকাস হার্নান্দেজ, জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা, রবিন রিসার, রায়ান শেরকি, ম্যাগনেস আকলিউশ ও ম্যাকসেন্স লাক্রোয়া।
প্যারাগুয়ের পূর্ণাঙ্গ একাদশ (৫-৪-১): অরলান্ডো গিল; হুয়ান কাসেরেস, গিলবার্তো ভেলাসকেস, গুস্তাভো গোমেস, ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো; মিগেল আলমিরন, মাতিয়াস গালার্সা, আন্দ্রেস কুবাস, দিয়েগো গোমেস; হুলিও এনসিসো।
প্যারাগুয়ের বিকল্প খেলোয়াড়: রদ্রিগো ফার্নান্দেস, ফাবিয়ান বালবুয়েনা, রামোন সোসা, আন্তোনিও সানাব্রিয়া, মাউরিসিও, হোসে কানালে, দামিয়ান ববাদিয়া, অ্যাঞ্জেল রোমেরো, আলেক্স আরসে, ব্লাস ওহেদা, গ্যাব্রিয়েল আভালোস, গাস্তোন অলভেইরা, জিওভান্নি কাবায়েরো, ইসিদ্রো পিত্তা ও আলবার্তো মাইদানা।
মতামত দিন