Views Bangladesh Logo

ফ্রান্স ৪ - ইংল্যান্ড ৬

ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

ম্যাচ শেষ | গোলবন্যার রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থানে ইংল্যান্ড

ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইস, এজরি কনসা ও বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্স। দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। এমবাপে দুটি গোল করার পাশাপাশি ব্র্যাডলি বারকোলাকে দিয়ে আরও একটি গোল করিয়ে ব্যবধান কমিয়ে ৪-৩ করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন।



তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডই ধরে রাখে নিয়ন্ত্রণ। জেদ স্পেন্সের আদায় করা পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৫-৪ করলেও, শেষ মুহূর্তেই জুড বেলিংহামের পাল্টা আক্রমণ থেকে করা গোল ইংল্যান্ডের ৬-৪ গোলের জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করল থমাস টুখেলের দল, আর শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও চতুর্থ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ফ্রান্সকে।


৯৮ মিনিট | বেলিংহামের গোলে শেষ হাসি ইংল্যান্ডের, পাল্টা আক্রমণে ষষ্ঠ গোল

ম্যাচের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার আশায় সব খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণে উঠেছিল, ঠিক তখনই দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের শেষ কথা বলে দেয় ইংল্যান্ড। দ্রুতগতির আক্রমণে বল পৌঁছে যায় জুড বেলিংহামের কাছে। বক্সের কেন্দ্রে দারুণ নিয়ন্ত্রণের পর ডান পায়ের নিখুঁত শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে।



এই গোলে ইংল্যান্ডের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৬-৪। দেম্বেলের গোলে যে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের আশা জেগেছিল ফ্রান্সের, বেলিংহাম মুহূর্তেই তা শেষ করে দেন। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে এই গোল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ডের দাপুটে জয় এবং ম্যাচে তাদের দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবলের পূর্ণ প্রতিফলন।


৯৬ মিনিট | দেম্বেলের গোলে শেষ মুহূর্তে রোমাঞ্চ, তবু জয়ের দ্বারপ্রান্তে ইংল্যান্ড


ম্যাচের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে শেষবারের মতো লড়াইয়ে ফেরার আশা জাগায় ফ্রান্স। দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সের কেন্দ্রে বল পান উসমান দেম্বেলে। কোনো ভুল না করে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।

এই গোলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৫-৪। শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন দেম্বেলে। তবে সময় ফুরিয়ে আসায় সমতায় ফেরার জন্য ফ্রান্সের হাতে খুব কম সুযোগই অবশিষ্ট থাকে, আর এক গোলের লিড ধরে রেখে জয়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।


৯৩ মিনিট | দেম্বেলের দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট, শেষ মুহূর্তেও ব্যবধান কমাতে ব্যর্থ ফ্রান্স

ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান কমানোর শেষ চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলে বল পৌঁছে যায় ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সের ডান প্রান্তে। সেখান থেকে উসমান দেম্বেলে ডান পায়ের জোরালো শট নিলেও সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। বল গোলপোস্টের বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় ফরাসি ফরোয়ার্ডকে।

ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলতে পারলেও সেই আক্রমণ থেকে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স। ফলে শেষ মুহূর্তেও তিন লায়ন্সের ৫-৩ ব্যবধান অক্ষুণ্ন থাকে এবং জয়ের আরও কাছে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।



৮৭ মিনিট | সাকার হ্যাটট্রিক, পেনাল্টি থেকে পঞ্চম গোল ইংল্যান্ডের

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। জেদ স্পেন্সকে বক্সের ভেতর ফাউল করার পর পাওয়া পেনাল্টি থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন তিনি। ফ্রান্সের গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে বলটি ডানদিকের নিচের কোণায় পাঠান সাকা।



এই গোলে ইংল্যান্ডের ব্যবধান বেড়ে হয় ৫-৩। ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সাকা দুটি ফিল্ড গোলের পর এবার পেনাল্টি থেকেও লক্ষ্যভেদ করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দেন।


৮৫ মিনিট | পেনাল্টি পেল ইংল্যান্ড! ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে বড় সুযোগ আদায় করে নেয় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন জেদ স্পেন্স। তাকে থামাতে গিয়ে ফ্রান্সের এক ডিফেন্ডার অবৈধভাবে ফাউল করলে কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

ফলে নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পায় থ্রি লায়ন্স। অন্যদিকে সমতায় ফেরার চেষ্টা করা ফ্রান্সের জন্য এটি বড় ধাক্কা হয়ে আসে, কারণ এই পেনাল্টি থেকে গোল হলে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।


৮৪ মিনিট | এমবাপের দূরপাল্লার শট, হেন্ডারসনের দারুণ সেভে বাঁচল ইংল্যান্ড

ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর পর সমতায় ফেরার লক্ষ্যে আবারও আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। ব্র্যাডলি বারকোলার পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো ডান পায়ের শট নেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন দারুণ দক্ষতায় বলটি তালুবন্দি করে ফ্রান্সকে আরেকটি গোল থেকে বঞ্চিত করেন।


৭৭ মিনিট | আক্রমণে ফ্রান্স, গুস্তো আদায় করলেন ফ্রিকিক

ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে আক্রমণে ওঠা ফ্রান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রিকিক আদায় করে। ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়ের ফাউলের শিকার হন মালো গুস্তো। ফলে প্রতিপক্ষের অর্ধে ভালো একটি অবস্থান থেকে সেটপিসের সুযোগ পায় ফরাসিরা। এক গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্স সমতায় ফেরার লক্ষ্যে এই ফ্রিকিককে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।


জোড়া গোলে বিশ্বকাপের ইতিহাস বদলে দিলেন এমবাপে, গড়লেন সর্বকালের গোলরেকর্ড

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। ৬৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান।



এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টি। এর ফলে তিনি লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন। এর আগে মেসির নামের পাশে ছিল ২১ গোল, আর এমবাপে এখন ২২ গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন।



শুধু তাই নয়, চলতি আসরে ১০ গোল করে এমবাপে ১৯৭০ সালে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক বিশ্বকাপে ১০ গোল করার কীর্তিও গড়েছেন। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন।


৬৬ মিনিট | এমবাপের জোড়া গোলে ম্যাচে ফিরছে ফ্রান্স, ব্যবধান এখন মাত্র এক গোল

দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিল ফ্রান্স। ৬৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের মাঝখানে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ান কিলিয়ান এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় এবং টুর্নামেন্টে নবম গোল করেন ফরাসি অধিনায়ক।

এক সময় ৪-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্স এখন ব্যবধান কমিয়ে করেছে ৪-৩। এমবাপের জোড়া গোল ও বারকোলার এক গোলে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরে এসেছে, আর শেষ সময়ে চাপে পড়েছে ইংল্যান্ড।



৬৪ মিনিট | দেম্বেলের শট রুখে দিলেন হেন্ডারসন, ব্যবধান কমাতে পারল না ফ্রান্স

ম্যাচে ফিরতে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ফ্রান্স। ৬৪তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের দারুণ পাস থেকে বক্সের মাঝখানে বল পান বদলি খেলোয়াড় উসমান দেম্বেলে। বাঁ পায়ের জোরালো শট নিলেও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন অসাধারণ সেভ করে বল আটকে দেন। ফলে আরেকটি নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ফ্রান্স।

এই সেভে এখনও ৪-২ গোলের লিড ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের লাগাতার আক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।


৬০ মিনিট | অলিসের জোরালো শট অল্পের জন্য বাইরে

ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফ্রান্স। ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শট নেন মাইকেল অলিস। তবে বলটি গোলপোস্টের বাঁ পাশ ঘেঁষে অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। এই আক্রমণে তাকে চমৎকার পাস বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ওয়ারেন জাইর-এমেরি।

এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে অনেক বেশি প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে ফ্রান্সকে। ইতোমধ্যে কিলিয়ান এমবাপে ও ব্র্যাডলি বারকোলার গোলে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেছে তারা। তবে অলিসের এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচে আরও জোরালোভাবে ফিরে আসতে পারত ফরাসিরা। বর্তমানে স্কোর: ফ্রান্স ২-৪ ইংল্যান্ড।


৫৮ মিনিট | কর্নার পেল ইংল্যান্ড, চাপ ধরে রাখার চেষ্টা থ্রি লায়ন্সদের

ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে কর্নারের সুযোগ পেয়েছে ইংল্যান্ড। ফ্রান্সের ডিফেন্ডার দায়ো উপামেকানোর ডিফ্লেকশনে বল কর্নারের বাইরে চলে গেলে এই সুযোগ পায় থ্রি লায়ন্সরা। ৪-২ গোলে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড ব্যবধান আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই আক্রমণের চাপ অব্যাহত রেখেছে।


৫৪ মিনিট | এমবাপের থ্রু পাসে বারকোলার গোল, ফিরতে শুরু করেছে ফ্রান্স

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিল ফ্রান্স। ৫৪তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এতে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেছে ফরাসিরা।

প্রথমে ৪৭তম মিনিটে এমবাপে নিজেই একটি গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বারকোলার গোলে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরে এসেছে। বর্তমানে স্কোর ফ্রান্স ২-৪ ইংল্যান্ড।


৪৯ মিনিট | এমবাপের গোলে ব্যবধান কমাল ফ্রান্স, তবু এগিয়ে ইংল্যান্ড

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিল ফ্রান্স। ৪৮তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের দারুণ থ্রু পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন কিলিয়ান এমবাপে। দ্রুতগতির এই আক্রমণে কোনো সুযোগই পাননি ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক।



এই গোলের মাধ্যমে ব্যবধান কিছুটা কমালেও ম্যাচে এখনো ইংল্যান্ডই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বুকায়ো সাকার জোড়া গোল, ডেকলান রাইস ও এজরি কনসার গোলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে থ্রি লায়ন্স।


গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন সবার ওপরে এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টি।


৪৮ মিনিট | পঞ্চম গোলের সুযোগ নষ্ট, টোনির শট প্রতিহত

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। ৪৯তম মিনিটে মরগান রজার্সের পাস থেকে বক্সের ডান দিক দিয়ে ডান পায়ে জোরালো শট নেন ইভান টোনি। তবে ফ্রান্সের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল প্রতিহত হয়। ফলে সম্ভাবনাময় এই আক্রমণ থেকেও গোলের দেখা পায়নি থ্রি লায়ন্সরা। বর্তমান স্কোর: ফ্রান্স ০-৪ ইংল্যান্ড।



৪৭ মিনিট | টোনির শট রুখে দিল ফ্রান্সের রক্ষণ

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। ৪৮তম মিনিটে মরগান রজার্সের পাস থেকে বক্সের ডান দিক থেকে ডান পায়ে জোরালো শট নেন ইভান টোনি। তবে ফ্রান্সের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল প্রতিহত হয়। ফলে পঞ্চম গোল থেকে বঞ্চিত হয় থ্রি লায়ন্সরা। ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড।



৪৬ মিনিট | সাকার জোড়া গোলে বিধ্বস্ত ফ্রান্স, বিরতির আগে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও একবার ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে ভেঙে দেয় ইংল্যান্ড। ৪৬ মিনিটে এবেরেচি এজের নিখুঁত থ্রু বল থেকে বুকায়ো সাকা বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন ডানদিকের নিচের কোণায়। গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ কোনো সুযোগই পাননি। এটি সাকার ম্যাচের দ্বিতীয় গোল। এর আগে ৩৬ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে গোল করেছিলেন তিনি। শুরুতেই ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড, পরে রাইসের কর্নার থেকে হেডে দ্বিতীয় গোল করেন এজরি কোনসা।



ফ্রান্স কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও কিলিয়ান এমবাপ্পের দুটি প্রচেষ্টা কাজে লাগেনি। একটি শট বাইরে চলে যায়, আরেকটি জোরালো শট দারুণভাবে রুখে দেন গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে। বর্তমানে স্কোর: ফ্রান্স ০-৪ ইংল্যান্ড।


৪০ মিনিট | দোয়ে ফাউলের শিকার, ফ্রান্সের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক

ম্যাচের ৪০তম মিনিটে ডান প্রান্তে আক্রমণে উঠতে গিয়ে ইংল্যান্ডের ডিফেন্সের চাপে ফাউলের শিকার হন ফ্রান্সের দেজিরে দোয়ে। এর ফলে বিপজ্জনক একটি জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় ফরাসিরা। তবে সেই সুযোগ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। এদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো ইংল্যান্ডের হাতেই রয়েছে। বুকায়ো সাকার তৃতীয় গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে থ্রি লায়ন্স।



৩৬ মিনিট | রাশফোর্ডের অ্যাসিস্টে সাকার গোল, ৩-০ ব্যবধানে উড়ছে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত আক্রমণের সামনে দিশেহারা ফ্রান্স। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন বুকায়ো সাকা। মার্কাস রাশফোর্ডের নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের বাঁ দিক থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালের ওপরের মাঝামাঝি অংশে পাঠান আর্সেনাল তারকা। এর আগে ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত গোলে ৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এরপর ২০ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে হেডে দ্বিতীয় গোল করেন এজরি কনসা। ২৩ মিনিটে হাইড্রেশন বিরতির আগে পর্যন্ত পুরো ম্যাচেই আধিপত্য দেখায় থ্রি লায়ন্সরা।



অন্যদিকে, ফ্রান্স কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও কিলিয়ান এমবাপ্পের একটি শট বাইরে চলে যায় এবং আরেকটি জোরালো প্রচেষ্টা ইংল্যান্ড গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন দারুণভাবে রুখে দেন।


৩৪ মিনিট | এমবাপেকে রুখে দিলেন হেন্ডারসন

ইংল্যান্ডের দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে আদ্রিয়েন রাবিওর পাস থেকে বক্সের মাঝখান থেকে ডান পায়ের জোরালো শট নেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে ইংল্যান্ড গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন অসাধারণ দক্ষতায় বলটি আটকে দেন।

এমবাপের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচে এখনও ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রান্স আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও গোলের দেখা পায়নি তারা।


২৩ মিনিট | হাইড্রেশন বিরতি, দুই গোলে এগিয়ে স্বস্তিতে ইংল্যান্ড

ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুর্দান্ত শুরু করেছে ইংল্যান্ড। ২৩ মিনিটে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতিতে যাওয়ার সময় ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে আছে থ্রি লায়ন্সরা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফ্রান্সকে চাপে রেখেছে ইংলিশরা।



ডেকলান রাইসের আগের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ২০তম মিনিটে কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। রাইসের নেওয়া কর্নার থেকে অসাধারণ হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যাস্টন ভিলার এই ডিফেন্ডার। ফরাসি রক্ষণভাগের দুর্বল মার্কিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।

অন্যদিকে দুই গোল হজমের পর কিছুটা বলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শুরু করেছে ফ্রান্স। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পের দূরপাল্লার একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া ছাড়া উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। হাইড্রেশন বিরতিতে যাওয়ার সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতেই রয়েছে।


২২ মিনিট | এমবাপের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট

ফ্রান্স দ্রুত ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। ২২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শট নেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে পাওয়া সুযোগটি তিনি কাজে লাগাতে পারেননি; বল ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের ওপর চাপ তৈরি করার সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স।


২০ মিনিট | কোনসার হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ, চাপে ফ্রান্স

ইংল্যান্ডের দাপট অব্যাহত। ২০ মিনিটে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন ডিফেন্ডার এজরি কোনসা। অ্যাস্টন ভিলার এই ডিফেন্ডারের এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় গোল। ফরাসি রক্ষণভাগের দুর্বল মার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে কোনসা দূরের কোণে বল জড়িয়ে দেন। শুরুর ২০ মিনিটেই দুই গোল হজম করে কঠিন চাপে পড়েছে ফ্রান্স। বর্তমানে স্কোর: ফ্রান্স ০-২ ইংল্যান্ড।


২০ মিনিট | ইব্রাহিমা কোনাতের ফাউলে ফ্রি-কিক পেল ইংল্যান্ড

ম্যাচের ২০তম মিনিটে আক্রমণে উঠেছিল ইংল্যান্ড। এ সময় ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে ফাউল করলে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় থ্রি লায়ন্সরা। শুরু থেকেই এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছে, অন্যদিকে সমতায় ফেরার লক্ষ্যে বলের দখল বাড়িয়েছে ফ্রান্স। স্কোর: ফ্রান্স ০-১ ইংল্যান্ড।


১২ মিনিট | সাকার গোল বাতিল, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড

ম্যাচের ১২ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। বুকায়ো সাকা ডিফেন্স ভেঙে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান। তবে সহকারী রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই অফসাইডের পতাকা তোলেন। পরে ভিএআর রিপ্লেতেও দেখা যায়, শেষ ডিফেন্ডারের তুলনায় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শরীর এগিয়ে ছিলেন সাকা। ফলে গোলটি বাতিল হয়।

গোল বাতিলের পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স, তবে তাদের সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। ম্যাচের শুরুতে চাপে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বলের দখল বাড়াতে শুরু করেছে ফরাসিরা। তবে ১২ মিনিট শেষে ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড।


৩ মিনিট | শুরুর ধাক্কা, রাইসের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড

ম্যাচের শুরুতেই দারুণ চমক দেখিয়েছে ইংল্যান্ড। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই ফ্রান্সের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ডেকলান রাইস। দেজিরে দুয়ের একটি ভুল পাস মাঝমাঠে কেটে নিয়ে দ্রুত সামনে এগিয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জালে বল জড়ান তিনি। ইংল্যান্ডের এই গোলে কোনো সুযোগই পাননি ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। ম্যাচের ৩ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ফ্রান্স ০-১ ইংল্যান্ড। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ায় সমতায় ফিরতে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ফ্রান্স, আর ইংল্যান্ড লিড ধরে রাখতে খেলছে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল।


প্রথম মিনিট  |  খেলা শুরু!
ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটি শুরু হয়েছে, বর্তমানে স্কোর ফ্রান্স ০-০ ইংল্যান্ড।





ফ্রান্সের একাদশ (৪-২-৩-১):
মাইক মেনিয়ান; মালো গুস্তো, ইব্রাহিমা কোনাতে, ম্যাক্সিম লাখরোয়া, থিও হার্নান্দেজ; ওয়ারেন জাইরে-এমেরি, আদ্রিয়েন রাবিও; মাইকেল অলিসে, রায়ান শেরকি, দেজিরে দুয়ে; কিলিয়ান এমবাপ্পে।

ইংল্যান্ডের একাদশ (৪-১-৪-১):
ডিন হেন্ডারসন; জ্যারেল কোয়ানসাহ, এজরি কনসা, মার্ক গেহি, জেডেন স্পেন্স; ডেকলান রাইস; বুকায়ো সাকা, এবারেচি এজে, মরগান রজার্স, মার্কাস রাশফোর্ড; আইভান টনি।



ইংল্যান্ড বনাম ফ্রান্স: মুখোমুখি পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে।
প্রথম দেখায় ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ২-০ গোলে জয় পায়।
দ্বিতীয়বার ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড জেতে ৩-১ গোলে।
তৃতীয়বার ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারায়।


সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স আবারও ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে।

সব মিলিয়ে দুই দলের শেষ ১০ দেখায় ইংল্যান্ডের জয় মাত্র ১টি, ড্র ২টি এবং ফ্রান্স জিতেছে ৭টি ম্যাচ। ইংল্যান্ডের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০১৫ সালের নভেম্বরে একটি প্রীতি ম্যাচে, যেখানে তারা ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল।



বিদায়ী মঞ্চে দেশম, গোল্ডেন বুটের খোঁজে এমবাপে: ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড

পরাশক্তিদের ফুটবলমঞ্চে কেউ কখনো সান্ত্বনার পুরস্কার চায় না। কিন্তু সেমিফাইনালের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় শিরোপার সোনালি স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার পর অন্তত একটি জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার তাগিদ কাজ করে মনের গভীরে। বাংলাদেশ সময় আজ দিবাগত রাত ৩টায় (স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা, যুক্তরাজ্য সময় রাত ১০টা) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।




সেমিফাইনালে যেভাবে বিদায় দুই দলের

টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট তকমা নিয়ে সেমিফাইনালে নেমেছিল ফ্রান্স, কিন্তু স্পেনের সামনে দাঁড়াতে পারেনি এমবাপের দল। মিকেল ওইয়ারসাবাল ও পেদ্রো পোরোর গোলে ২-০ ব্যবধানে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয় তাদের। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আটলান্টায় দুর্দান্ত শুরু করেও শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হয় ইংল্যান্ডের। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর এনসো ফের্নান্দেসের সমতাসূচক গোল ও লাউতারো মার্তিনেসের জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় টমাস টুখেলের শিষ্যরা। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এর আগে ৩২ বার মুখোমুখি হয়েছে, সবশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ঠিক চার বছর আগে ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে জিতেছিল ফ্রান্স।



গোল্ডেন বুটের হিসাব-নিকাশ


এই ম্যাচ দলীয় অর্জনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণেরও বড় মঞ্চ। আট গোল নিয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে গোলসংখ্যায় সমতায় আছেন কিলিয়ান এমবাপে, তবে অ্যাসিস্টের বিচারে (মেসির ৪, এমবাপের ৩) সামান্য পিছিয়ে আছেন ফরাসি অধিনায়ক। যেহেতু মেসি ফাইনালেই ব্যস্ত থাকবেন, তাই এই ম্যাচই এমবাপের জন্য নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে এককভাবে গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করার শেষ সুযোগ। পুরো টুর্নামেন্টে (বাছাইপর্বসহ) তার গোলসংখ্যা ২০, যা তাকে নিয়ে গেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার কাছাকাছি; যেখানে শীর্ষে থাকা মেসির গোলসংখ্যা ২১। এমবাপের পেছনে ছুটছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম, দুজনেরই গোলসংখ্যা ৬টি করে। আজ ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে তারাও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ঢুকে পড়তে পারেন।


দুই কোচের ভিন্ন বাস্তবতা

দিদিয়ের দেশমের জন্য এই ম্যাচ হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের দায়িত্বে তার ১৪ বছরের রাজত্বের শেষ ম্যাচ। এই সময়ে তিনি দলকে এনে দিয়েছেন ২০১৮ বিশ্বকাপ শিরোপা, ২০২২ সালের ফাইনাল এবং টানা তিনবার সেমিফাইনাল খেলার কীর্তি। এই ম্যাচ জিততে পারলে তা হবে ফ্রান্সের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ পোডিয়াম ফিনিশ, এবং দেশমকে জয় দিয়ে বিদায় জানানোর সুযোগ।



বিপরীতে টমাস টুখেল রয়েছেন সমালোচনার মুখে। ম্যাচের আগে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, 'কোনো ইংলিশ বা ফরাসি খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। তারা ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল। ফাইনালে যেতে আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলাম।'



এই ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ মেডেল নিশ্চিত করতে পারলে তা হবে ১৯৬৬ সালের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের মধ্যে সেরা ফলাফল। এর আগে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হেরে চতুর্থ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের।

নিশ্চিত হওয়া দলীয় পরিবর্তন


ফ্রান্সের রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ উইলিয়াম সালিবা এই ম্যাচে খেলছেন না। স্পেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই পিঠের চোটে মাঠ ছাড়া আর্সেনাল ডিফেন্ডারের জায়গায় ক্রিস্টাল প্যালেসের ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া ইব্রাহিমা কোনাতের সঙ্গে সেন্টারব্যাক জুটি গড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডানপ্রান্তে জুল কুন্দে অব্যাহত থাকলেও বাঁপ্রান্তে লুকাস দিন্যের জায়গায় শুরু করতে পারেন থেও এর্নান্দেস; সেমিফাইনালে লামিনে ইয়ামালের বিপক্ষে দিন্যের ভোগান্তির প্রেক্ষাপটেই এই পরিবর্তন।


ইংল্যান্ড শিবিরেও চোটের কারণে ছিটকে গেছেন রিস জেমস। ক্লান্তি সামলাতে টুখেল বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন একাদশে, বিশ্রামে থাকা খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে চাইবেন তিনি। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকায় অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের শুরু থেকে খেলার সম্ভাবনা বেশি। উভয় দলই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত অবস্থায় আছে বিস্তৃত ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর, ফলে দুই কোচই একাদশে উল্লেখযোগ্য রদবদল আনতে পারেন।

অপটা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস

পরিসংখ্যানভিত্তিক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অপটা সুপারকম্পিউটার ২৫,০০০ বার ম্যাচটি সিমুলেশন করে ফ্রান্সকেই এই মহারণে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৫০.৭ শতাংশ এবং ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ২৫.৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৩.৭ শতাংশ।

হাইভোল্টেজ ম্যাচ: ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ প্রকাশ

ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড মুখোমুখি হতে যাচ্ছে একটি ব্লকবাস্টার ম্যাচে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে দুই দলেরই সম্ভাব্য রণকৌশল ও একাদশ সামনে এসেছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় তুলে নিতে দুই দলই শক্তিশালী একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে।

ফ্রান্স একাদশ (ফর্মেশন: ৪-২-৩-১)

ব্রিস সাম্বা (গোলরক্ষক); মালো গুস্তো, ইব্রাহিমা কোনাতে, ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া, থেও এর্নান্দেস (রক্ষণ); এনগোলো কান্তে, ওয়ারেন জাইর-এমেরি (মধ্যমাঠ); দেজিরে দুয়ে, রায়ান শের্কি, উসমান দেম্বেলে (আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠ); কিলিয়ান এমবাপে (আক্রমণভাগ)।

ইংল্যান্ড একাদশ (ফর্মেশন: ৪-১-৩-২)

জর্ডান পিকফোর্ড (গোলরক্ষক); জেড স্পেন্স, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, নিকো ও'রাইলি (রক্ষণ); এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ডেকলান রাইস (মধ্যমাঠ); মরগান রজার্স, জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডন (আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠ); হ্যারি কেইন (আক্রমণভাগ)।

একদিকে ফরাসি কিংবদন্তি দেশমের বিদায়ের সম্মান রক্ষা ও এমবাপের গোল্ডেন বুট অভিযান, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ষাট বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর সুযোগ— সব মিলিয়ে মায়ামির এই লড়াই সান্ত্বনার ম্যাচ হলেও উত্তেজনার পারদ থাকবে তুঙ্গে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ