ফ্রান্সের দাপটে বিধ্বস্ত নরওয়ে, গ্রুপ সেরা এমবাপ্পেরা
বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ‘আই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিতভাবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো ফ্রান্স। ম্যাচটি ছিল একতরফা, কিন্তু মাঝেমধ্যে নাটকীয়তার কমতি ছিল না।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স। দারুণ ছন্দে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের পাস থেকে ডানদিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে দূরের কোণে বল পাঠান উসমান দেম্বেলে। ২০তম মিনিটে আবারও এমবাপ্পের অ্যাসিস্টে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
২-০ হওয়ার মাত্র এক মিনিট পরেই পাল্টা গোল করে ম্যাচে ফেরে নরওয়ে। শেলদেরুপের অ্যাসিস্টে থেলো আসগার্ড বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে গোল করেন, ফ্রান্সের রক্ষণের অমনোযোগের পুরো সুযোগ কাজে লাগান তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩২তম মিনিটে ভেতরে ঢুকে কার্ল করে তৃতীয় গোলটি করে হ্যাট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে- যেটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাট্রিক।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে নরওয়ে। থিও এর্নান্দেজের ফাউলে পেনাল্টি পায় তারা। ৫০তম মিনিটে শট নেন স্ট্র্যান্ড লারসেন, কিন্তু অত্যন্ত দ্বিধাগ্রস্ত রান-আপের পর ডান দিকে দুর্বল শট নেন তিনি — গোলকিপার মাইক মাইনিয়ঁ সহজেই বাঁচিয়ে দেন। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দেজিরে দুয়ে চতুর্থ গোল করে ম্যাচ সিল করেন।
পরিসংখ্যানেও ফ্রান্সের আধিপত্য স্পষ্ট। মোট শটে ফ্রান্স ১৯-১০ এ এগিয়ে, শট অন টার্গেটে ১০-৫। বল দখলে ফ্রান্স ৫৭ শতাংশ, নরওয়ে ৪৩। পাসের নির্ভুলতায়ও ফ্রান্স এগিয়ে — ৫৩৬টি পাসে ৯০ শতাংশ নির্ভুলতা বনাম নরওয়ের ৩৯৯টি পাসে ৮৩ শতাংশ। ফাউল দুই দলেরই ৯টি করে, হলুদ কার্ড দুই দলে একটি করে।
‘আই’ গ্রুপের চূড়ান্ত হিসেবে ফ্রান্স ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, নরওয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়। রাউন্ড ৩২ এ ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে সুইডেন, আর নরওয়ে খেলবে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। সেনেগাল ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়। তবে তৃতীয় স্থানের দল হিসেবে রাউন্ড ৩২ এ যাওয়ার সুযোগ এখনো আছে। ইরাক শূন্য পয়েন্ট নিয়ে বিদায়।
মতামত দিন