এমবাপ্পের জোড়া গোলে উড়ছে ফ্রান্স, অসহায় সুইডেন
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ইউরোপিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী সুইডেনকে রীতিমতো উড়িয়ে দিচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। বাংলাদেশ সময় বুধবার (১ জুলাই) নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের সুবাদে সুইডেনের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল।
শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও সুইডেনের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম কিছুক্ষণ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে মাইকেল অলিসের দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে উসমান দেম্বেলের নেওয়া শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরও চাপ ধরে রাখে ফরাসিরা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেই চাপের ফল পায় লা ব্লুজরা। আক্রমণভাগে দ্রুতগতির সমন্বিত এক মুভ থেকে পাওয়া বল কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দেশমের শিষ্যরা। ৫৩তম মিনিটে দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণ থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। সতীর্থের নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের ভেতরে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার আশায় রক্ষণ ছেড়ে সামনে উঠে আসে সুইডেন। কিন্তু সেটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। ম্যাচের পরবর্তী সময়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে সুইডিশ রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে ফ্রান্স। এমন এক আক্রমণ থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। দারুণ গতিতে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে জাল কাঁপিয়ে ম্যাচকে প্রায় একপেশে করে দেন ফরাসি অধিনায়ক।
ম্যাচের পরিসংখ্যানও ফ্রান্সের আধিপত্যেরই প্রতিফলন। বলের দখল, পাসের সফলতা, শট অন টার্গেট এবং আক্রমণের সংখ্যা—সব ক্ষেত্রেই সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে তারা। মাইকেল অলিসে, উসমান দেম্বেলে, বারকোলা ও এমবাপ্পের গতি ও সমন্বয়ে সুইডেনের রক্ষণভাগ বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে অ্যালেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর গিয়োকেরেস ও অ্যান্থনি এলাঙ্গাকে ঘিরে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের সামনে তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি সুইডেন। উইলিয়াম সালিবা ও দায়ো উপামেকানোর নেতৃত্বে ফরাসি ডিফেন্স ছিল প্রায় দুর্ভেদ্য।
নকআউট পর্বের এই ম্যাচের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি, কারণ জয়ী দল নিশ্চিত করবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্স শেষ আটের পথে এক পা নয়, প্রায় দুই পা দিয়েই এগিয়ে গেছে। আর ম্যাচে ফিরতে হলে বাকি সময়ে সুইডেনকে ঘটাতে হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তনের গল্প।
এমবাপ্পের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স যে আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার, সুইডেনের বিপক্ষে তাদের এই দাপুটে পারফরম্যান্স যেন সেটিরই আরেকটি প্রমাণ হয়ে উঠেছে।
মতামত দিন