Views Bangladesh Logo

একই আমদানিকারকের নামে মোংলার পর চট্টগ্রামেও ধরা পড়ল খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি

পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে টুকরা টুকরা করে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির একই ধরনের কৌশল আবারও ধরা পড়ল, এবার চট্টগ্রাম বন্দরে। আর এই চালানের সঙ্গে জড়িত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার ‘ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস’। যাদের নামে কিছুদিন আগে মোংলা বন্দরেও একই কায়দায় আনা গাড়ির চালান আটক হয়েছিল।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) অভিযান চালিয়ে চালানটি জব্দ করার কথা সংবাদ সম্মেলনে জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন। জাপান থেকে আনা ৪০ ফুট একটি কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আমদানি করা হয়েছিল, যা ঘোষণায় বলা হয়েছিল ‘পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ও গিয়ারবক্সসহ ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন’। কনটেইনারে তিন স্তরে পণ্য সাজানো ছিল—সামনের দিকে রাখা হয়েছিল গাড়ির যন্ত্রাংশ, আর তার আড়ালেই পাওয়া যায় লেক্সাস ও বিএমডব্লিউর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার চালানটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পরীক্ষায় লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫ মডেলের গাড়ির যন্ত্রাংশের পাশাপাশি হোন্ডা বি১৮সি টাইপ-আর ইঞ্জিন, গাড়ির ফ্রন্ট হাফ বা হাফ-কাটসহ আরও যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। চালানটি গত ১০ জুলাই বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাসেও বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি বলে জানান সাগর সেন। এরপর নিলামের মাধ্যমে পণ্য খালাসের চেষ্টা চলছিল—এমন তথ্য পেয়েই চালানটি পরীক্ষা করা হয়।

কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাবে, লেক্সাস এলএক্স ৬০০-এর বাজারমূল্য ৬ থেকে ৯ কোটি টাকা, লেক্সাস এসসি ৪৩০-এর ৫০ থেকে ৯০ লাখ টাকা এবং বিএমডব্লিউ এম৫-এর ৩ থেকে ৮ কোটি টাকা হতে পারে। তবে যন্ত্রাংশগুলোর প্রকৃত মূল্য ও শুল্কযোগ্যতা যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে। সব মিলিয়ে চালান দুটির শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস। সাগর সেন বলেন, চালানে পাওয়া অংশগুলো আবার জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব কি না, তা বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। গাড়িভেদে শুল্ক-কর ভার ১০৩ থেকে ৬২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানান তিনি। আমদানিকারক বা সংশ্লিষ্ট কেউ চালানটি খালাস করতে চাইলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মোংলা বন্দর দিয়ে একই কায়দায়, অর্থাৎ পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কয়েকটি অংশে ভাগ করে বা সিকেডি অবস্থায় আনার চেষ্টা ধরা পড়ে। শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে সেই চালানও জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছিল, প্রতিটি গাড়ির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি। দুই বন্দরের এই দুই চালানের পেছনে একই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে, এই ধরনের চোরাই কৌশল দিয়ে আরও কতগুলো চালান আগে নির্বিঘ্নে খালাস হয়ে গেছে।

মোংলার ঘটনার একই দিনে চট্টগ্রামেও পৃথক এক অভিযানে ধরা পড়ে বিলাসবহুল গাড়ি। নগরের রহমতগঞ্জের সাত্তার মঞ্জিলের একটি গ্যারেজ থেকে ‘চট্ট মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১’ নিবন্ধন নম্বরের একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। গাড়িটির বাজারমূল্য নিশ্চিত করা না গেলেও তা কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়িটি আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানান তারা।

একই দিন রাতে কক্সবাজারের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের পার্কিং এলাকা থেকে আরও তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়। গাড়িগুলোর ক্রয় ও আমদানি-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সেগুলো জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, যদিও মালিকপক্ষের দাবি ছিল গাড়িগুলো তাদের ‘বাবার উপহার’। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব গাড়ি শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, চোরাচালান কিংবা দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ