‘ছাদ থেকে ফেলে’ ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক। তিনি জানান, গত শনিবার রাতে অভিযানে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়।
নিহত মনোয়ারুল (৩০) সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে থাকতেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মিন্টু মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, কিশোরীটি সাভারে অবস্থান করছে।
এরপর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার নয় সদস্যের একটি দল সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে যায়। অভিযানে সাভার থানা-পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযান চলার একপর্যায়ে ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে মনোয়ারুলের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর ভাই মমদেল হোসেনের দাবি, নিখোঁজ কিশোরীর সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে বসবাস করছিলেন।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, কিশোরীকে উদ্ধারের সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁর বাবা ও আরও একজন ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর তাঁরাই মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে দেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার পর গত শনিবার সকালে মনোয়ারুলের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে যান স্বজন ও স্থানীয়রা। সেখানে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঢাকা ও রংপুরে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করবে। অভিযানে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।
মতামত দিন