Views Bangladesh Logo

রংপুরে রাতের আঁধারে একই পরিবারের ৪ খুন, ছাদ-সিঁড়ি-ঘরে পড়ে ছিল মরদেহ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে নির্মাণাধীন ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিকভাবে পুলিশ বলছে, শ্বাসরোধ করে তাঁদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

নিহতরা হলেন- গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলোর গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল। বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন কক্ষের মালামালও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া গেছে। আলমারি ও অর্থ-গয়না রাখার জায়গায় ভাঙচুরের চিহ্ন থাকায় ডাকাতির বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মরদেহ উদ্ধারের স্থানগুলোও ছিল ভিন্ন ভিন্ন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রীতিলতা ও তাঁর মেয়ে আগামীকে ছাদের সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায়। ছেলে প্রীয়মের মরদেহ ছিল একটি খাটের নিচে। আর গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় ছাদের এক পাশে। কয়েক দিন ধরে মরদেহ পড়ে থাকায় বাড়ির ভেতরে পচনের তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল।

স্বজনদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শনিবার রাতে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী একে একে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে কাউকে না পেয়ে তাঁদের বাসায় যান। বাড়িটি অন্ধকার ও বন্ধ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় তাঁর। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। তখন একে একে চারজনের মরদেহের সন্ধান মেলে।

স্থানীয়রা জানান, কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িটির নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। সম্প্রতি তিনি পরিবার নিয়ে দোতলায় বসবাস শুরু করেছিলেন। নিচতলা ছিল ফাঁকা। নতুন করে সেখানে বসবাস শুরু করায় আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গেও পরিবারের তেমন ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি।

ঘটনার পর বাড়িটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সিআইডি। রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং ডাকাতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তা বের করতে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ