Views Bangladesh Logo

মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির জেরে ভাড়াটিয়াকে হত্যা করেন ৪ ভাই: পিবিআই

ময়মনসিংহ নগরের একটি ভাড়া বাসায় যুবক রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৪০) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, বাড়িওয়ালাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরে তার চার ছেলে পরিকল্পিতভাবে রাজিবকে হত্যা করেছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

পিবিআই জানায়, ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে তারা। তদন্তের একপর্যায়ে বাড়ির মালিকের চার ছেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় এক মাস আগে রাজিব ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এ কারণে বাড়ির মালিক তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দিতে বললেও তিনি সেখানে জোর করে থাকতে চাইছিলেন।

পিবিআইয়ের দাবি, রোববার সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। সকালে রাজিব বাড়িওয়ালা ও তার ছেলের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। পরে বাড়ির মালিকের চার ছেলে পরিকল্পনা করে একটি ধারালো কুড়াল দিয়ে রাজিবের গলায় আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার চার ভাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরেই তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে ঘটনাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিবিআই আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে রোববার সকালে ময়মনসিংহ নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিব আহম্মেদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিক, তার তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মামলার এক নম্বর আসামি বাড়ির মালিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সুস্থ হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এছাড়া আগে আটক হওয়া আরও দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ