দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আন্তজার্তিক ইস্যুতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক আজ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ-এর আমন্ত্রণে ৭ থেকে ৯ জুন মস্কো সফর করছেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ল্যাভরভের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধানদের মধ্যে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল। বর্তমান দায়িত্বে এটি খলিলুর রহমানের প্রথম রাশিয়া সফর। তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সোমবার (৮ জুন) নির্ধারিত বৈঠকে দুই পক্ষ রাশিয়া-বাংলাদেশ সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। সফরের কর্মসূচিতে রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির ফেডারেশন কাউন্সিলের নেতৃত্বের সঙ্গেও খলিলুর রহমানের বৈঠক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকা মস্কোর দীর্ঘদিনের অংশীদার। ১৯৭২ সালে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল এবং দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে সোভিয়েত নৌবাহিনী চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা থেকে মাইন ও ডুবে যাওয়া জাহাজ অপসারণে কাজ করে।
ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের রাজনৈতিক সংলাপ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ, যখন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সেই ওভারচুক ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস চীনের হাইনান দ্বীপে অনুষ্ঠিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া-এর ফাঁকে বৈঠক করেন।
বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। কয়েক বছর ধরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রয়েছে। রাশিয়া থেকে প্রধানত শিল্প সরঞ্জাম, খনিজ সার ও গম আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য রপ্তানি করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম বড় প্রকল্প হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রথম ইউনিট ২৮ এপ্রিল চালু হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটও চলতি বছর চালু হতে পারে। পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্রটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও রুশ প্রযুক্তির চাহিদা রয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গ্যাজপ্রম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ২০টি কূপ খনন ও উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করেছে।
শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ায় অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে ১৮৫টি বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে, যা রুশ ফেডারেল বাজেট থেকে অর্থায়ন করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে