কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন মামলা নিয়ে মুখ খুললেন ফ্লোরেন্স পিউ
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর করা যৌন নিপীড়নের মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন হলিউড অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। একই সঙ্গে মামলাটি নিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেটি প্রকাশ করতে বাধার মুখে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘ইস্ট অব ইডেন’-এর প্রচারণায় বর্তমানে ব্যস্ত ফ্লোরেন্স। সম্প্রতি ‘দ্য ভিউ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি ওই মামলাসহ যৌন সহিংসতার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
অভিনেত্রী জানান, মামলাটি নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টও প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরে টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সরাসরি বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
ফ্লোরেন্স বলেন, একজন নারী হিসেবে এ ধরনের ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তার মতে, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার আশঙ্কা নারীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ভয় তৈরি করে। কোনো ঘটনা সামনে আসার পর সেটি প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পেলে ভয়, উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের পরিচিতি ও পেশাগত অবস্থানের কারণে কথা বলার একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন উল্লেখ করে ফ্লোরেন্স বলেন, তিনি এই সুযোগ ব্যবহার করে বিষয়টি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চেয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই বক্তব্য প্রকাশ করতে না পারাকে তিনি আরও একটি হতাশাজনক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, নারীরা যখন নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে পারেন না, তখন তাদের কণ্ঠও কার্যত থামিয়ে দেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি করেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী। মামলায় উইনস্টন লি, স্কট ক্রেটশমার, স্কট নরিস, ম্যাথিউ ইংলস, জনাথন নিউয়েল, জিলিও লোপেজ ও দিয়েগো সারাবিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওই শিক্ষার্থী এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই ভ্রাতৃসংগঠনের একটি বাড়িতে যান। সেখানে দুই ব্যক্তি তাকে একটি পদার্থ গ্রহণে চাপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর ওই শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত বা অচেতন অবস্থায় ছিলেন এবং সেই অবস্থায় একাধিক ব্যক্তি তার সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়ান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর আইনজীবী থমাস জিফ্রার দাবি, অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে প্রবন্ধ লেখার মতো শাস্তিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে মামলায় অভিযুক্ত সাতজনের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি।
মতামত দিন