তিন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ২৯ লাখ মানুষ
গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব জেলায় পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ২৯ লাখেরও বেশী মানুষ। এ পরিস্থিতিতে জেলাগুলোতে খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
চলমান বন্যার মধ্যে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এতে লক্ষ্মীপুরের মান্দারী, দত্তপাড়া, দিঘলী, বাঙাখাসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে এসব ইউনিয়নগুলোর রাস্তাঘাট প্রায় ৮০ ভাগ ডুবে গেছে।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন, জেলায় বর্তমানে ৭ লাখ ২৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৪০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও শিশু খাদ্যের জন্য ৫ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে সরকার। তবে বন্যাকবলিত এলাকার জন্য এ বরাদ্ধ পর্যাপ্ত নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরও ১৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৩০ লাখ টাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালীতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এ জেলার ৮ উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় ১১৬৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার মানুষ।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পানিবন্দি মানুষদের মধ্যে সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে রাতভর বৃষ্টিতে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জে বন্যা পরস্থিতির অবনিত হয়েছে। তবে ফরিদগঞ্জে পানি কমায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ জেলার তিন উপজেলায় পানিবন্দি রয়েছেন দেড় লাখ মানুষ।

মতামত দিন