Views Bangladesh Logo

অতিবৃষ্টির ফলে দূর্গাপুর উপজেলায় ৩৬৫ হেক্টর জমির বোরোধান ক্ষতিগ্রস্ত: কৃষি কর্মকর্তা

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ভারি বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গারো পাহাড়খ্যাত নেত্রকোণা জেলার সুসং দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরীর নদীতে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়াতে জমির বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এজন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের দ্রুত ধানকাটার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বিজয়পুর দিয়ে উজানের পানি প্রবেশ করছে সোমেশ্বরীতে। স্থানীয় বাসিন্দা গারো-হাজংসহ বাঙালি জনগোষ্ঠী জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয়ে অতি বৃষ্টি এবং দূর্গাপুরে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। টানা বৃষ্টির কারণে বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কৃষক কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কোথাও কোথাও ধান পচে যাচ্ছে, আবার কাটা ধানও শুকাতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে।

পাহাড়ের নিমনাঞ্চলের কৃষকেরা জানিয়েছেন, কৃষি নির্ভর এই ফসল যথাসময়ে ঘরে তুলতে না পারলে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির সন্মুখীন হতে হবে তাদের। কিন্তু আকস্মিক জলাবদ্ধতায় সেই ফসল রক্ষা করা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দূর্গাপুর সদর ইউনিয়ণের কৃষক ফজলু মিঞা জানিয়েছেন, দুই আড়া জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র এক আড়া ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেও বাকি ধান এখনও পানির নিচে। যে টুকু কেটেছেন তাও বৃষ্টির কারনে শুকাতে পারছেন না।

আদিবাসী কৃষক গুহিম হাজং জানিয়েছেন, পাকা ধান পানির নিচে থাকায় তা কাটা সম্ভব হচ্ছে না। আবার নতুন করে বৃষ্টিপাত শুরু হলে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে সব।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীপা বিশ্বাস জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ মোট ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে রবিবার (৩ মে) পর্যন্ত প্রায় ৩৬৫ হাজার হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। ১৪৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত কয়েকদিনে অতি বৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী কংশো নদীর পানি উপচে কৃষিজমিতে প্রবেশ করার ফলে এই ক্ষতির সন্মুখিন কৃষক।

এখন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমির বোরো ধান বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে। নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে পানি কমে বিপদসীমার ৫ দশমিক ৮১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল এবং দুর্গাপুর পয়েন্টে ছিল ৪ দশমিক ১১ মিটার নিচে।

একদিকে পানির নিচে থাকা ধান, অন্যদিকে কেটে ঘরে তোলার পরও শুকাতে না পারায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা নীপা বিশ্বাস বলেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তিন মাসের সহযোগিতা দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে দূর্গাপুর কলমাকান্দার সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল দূর্গাপুর ও শিবগঞ্জ যাতায়াতের জন্য সর্ব সাধারণের জন্য যে কাঠের সেতু করে দিয়েছিলেন, সেই ব্রিজটিও বন্যায় ভেসে গেছে।

এতে অত্র অঞ্চলের স্কুল কলেজ পড়ুয়াসহ সর্বসাধারণের চলাচলে বিঘ্নঘটছে প্রতিদিন। দূর্গাপুর শিবগঞ্জের বিশিষ্ঠ্য সমাজ সেবক মোহম্মদ রওশন আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা ওহাদ আলী হাজী, আফজাল হোসেনসহ স্থানীয়রা জানিযেছেন, প্রতিদিন শিবগঞ্জ দূর্গাপুর হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে নেত্রকোণা ময়মনসিংহ ও ঢাকায় যাতায়াত করেন।

সম্প্রতি সোমেশ্বরীর ওপরে জননেতা ডিপুটি স্পীকার নিজ অর্থায়নে ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায় একটি কাঠের ব্রীজ কওে দিয়েছিলেন জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে। ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগের মধ্যে নৌকায় পাড়াপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

রওশন আলী আরও জানান, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের ডিপুটি স্পীকার ইতিমধ্যে দুটি ব্রীজ একনেকের বৈঠকে পাশ করিয়েছেন। সেই সঙ্গে একটি দৃষ্টিনন্দন বেঈলী ব্রীজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি মনে করেন বর্ষার পরেই ব্রীজ তিনটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ