হবিগঞ্জে ‘হোমিওপ্যাথিক তরল’ পানে ৫ জনের মৃত্যুর অভিযোগ
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অ্যালকোহলজাতীয় হোমিওপ্যাথিক তরল পান করার পর দম্পতিসহ পাঁচজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি বুধবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে ঘটে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাকি দুজনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকলেও স্থানীয়রা তাদের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।
মৃতরা হলেন লাখাই উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন দাস (৬০), সুজিত দাস (৩৫), ভাদিকাড়া গ্রামের নন্দলাল রবিদাস (৫২) ও তাঁর স্ত্রী সুবি রবিদাস (৪০), এবং হবিগঞ্জ শহরের রঞ্জিত কুড়ি (৩৬)।
স্থানীয়দের দাবি, মনোরঞ্জন, সুজিত ও রঞ্জিত মোড়াকড়ি বাজারের একটি হোমিওপ্যাথিক দোকান থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে নিয়মিত নেশা করতেন। মঙ্গলবার রাতে ওই তরল সেবনের পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মনোরঞ্জন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে, সুজিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং রঞ্জিত ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, নন্দলাল রবিদাস ও তাঁর স্ত্রী সুবি রবিদাসও একই ধরনের তরল সেবনের পর বাড়িতেই মারা যান। পরে তাঁদের মরদেহ দাহ করা হয়।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ দাস বলেন, ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। তবে যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে অ্যালকোহলজাতীয় কোনো পদার্থের বিষক্রিয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, পুলিশ তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, আরও দুজনের মরদেহ পুলিশকে না জানিয়েই দাহ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক পরীক্ষা এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
মতামত দিন