নিষেধাজ্ঞা শেষে সাড়ে তিন মাস পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু
টানা প্রায় সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ শিকার শুরু করেছেন জেলেরা। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার পর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে জেলেরা হ্রদে নামেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকেই মাছভর্তি নৌযান রাঙামাটি শহরের ফিশারি মৎস্য অবতরণ ঘাটে ফিরতে শুরু করে।
লংগদু, বরকল, সুবলং ও বন্দুকভাঙাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ নিয়ে নৌযানগুলো ঘাটে আসে। নৌকা থেকে মাছ নামানো, ওজন করা ও ট্রাকে তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন জেলে, শ্রমিক ও আড়তদারেরা। দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরা শুরু হওয়ায় ঘাটজুড়ে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
জেলেরা জানিয়েছেন, প্রথম দফায় মাছের পরিমাণ মোটামুটি ভালো হলেও বেশির ভাগ মাছ আকারে ছোট। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, মাছের সরবরাহ সন্তোষজনক হলেও বড় মাছের উপস্থিতি কম। একই সঙ্গে ঘাটে পন্টুন ও মাছ সংরক্ষণের জায়গার সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতারা জানান, প্রায় ১০০ দিন পর হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। দিন শেষে মোট আহরণের পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাছের আকার কিছুটা ছোট হয়েছে।
বিএফডিসির রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ আল করিম জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ঘাটে প্রায় ১৬ মেট্রিক টন মাছ এসেছে। গত বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিন ১২৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণ হয়েছিল। ওই বছর ১০ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি মাছ পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সঙ্গে জেলেদের জন্য কয়েকটি শর্তও দিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাছ ধরতে বিএফডিসির রাঙামাটি কেন্দ্র থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯ ইঞ্চির কম আকারের পোনা মাছ ধরা, মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছ শিকার এবং নির্ধারিত অবতরণ ঘাটের বাইরে মাছ নামানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
মতামত দিন