Views Bangladesh Logo

নতুন সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু আজ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ অধিবেশনে আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন এটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ অধিবেশন শুরুর আগে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্ব আয়ের সিংহভাগই আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে কর, ভ্যাট ও শুল্ক থেকে। এনবিআরের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আর বাজেটের অবশিষ্ট বিশাল ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

শিল্প উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস ও সার আমদানিসহ বিভিন্ন খাতে আগামী অর্থবছর ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণবাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা) তুলনায় এই খাতে বরাদ্দ বাড়ছে মাত্র ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ খাতের জন্য ভর্তুকি রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের সমান। এছাড়া সার আমদানিতে রাখা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। তবে আগামী বাজেটে কৃষি খাতের জন্য মূল বরাদ্দ চলতি বছরের সমান (১৭ হাজার কোটি টাকা) রাখা হয়েছে। সারের বাকি অর্থ অন্যান্য খাত থেকে সমন্বয় করা হবে। অন্যদিকে এলএনজি আমদানির জন্য সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দিতে চলতি বছরের সমান ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ, এলএনজি ও কৃষি ভর্তুকিবাবদ আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য বিতরণের বরাদ্দ কমিয়েছে সরকার। আগামী অর্থবছরের জন্য এ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১০ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওএমএস ও টিসিবির মতো কর্মসূচি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

অন্যদিকে, হুন্ডি ঠেকাতে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা ১ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের জন্য এই খাতে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে, যা চলতি বছর ছিল ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাজেট ঘাটতি কমাতে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার চাপ দিলেও, বাংলাদেশ নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দিয়েছে। সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলা করে এই বিশাল বাজেট কতটুকু সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ