ফিরোজা না যমুনা—নতুন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কোথায়?
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ এখন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন? গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে বিএনপি। ফলে দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তাঁর ঠিকানা কোথায় হবে, সেজন্য প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনকে বেঁছে নিয়েছে প্রশাসন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’কে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যমুনার অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারপ্রধানের বসবাসের জন্য উপযোগী হওয়ায় একেই প্রাথমিক পছন্দ হিসেবে রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা যেখানে অবস্থান করছেন, সেটিই আপাতত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁর জন্য কোনটি সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে।”
তারেক রহমানের জন্য যমুনার পাশাপাশি তাঁর মায়ের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ‘ফিরোজা’ কিংবা গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনটিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আবাসিক এলাকায় সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুলশান থেকে সংসদ ভবনের যাতায়াত দূরত্ব ও যানজট বিবেচনা করলে সরকারি কোনো সংরক্ষিত ভবনে থাকাই বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
খালেকুজ্জামান চৌধুরী আরও যোগ করেন, “তারেক রহমানের থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণই নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ২৯ নম্বর মিন্টো রোডের বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে বর্তমান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই বাড়িতে উঠেছিলেন। তবে ২০০১ সালের পর থেকে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা আর সেই বাড়িতে থাকেননি।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে