কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরের আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে এবং জুলাই আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দিতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে—বাংলাদেশ হাসবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, জয় বাংলা—জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘হানিফ সাহেবের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। কামারুল ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।’
এ ছাড়া ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘ষড়যন্ত্র করে জঙ্গিবাদীরা আমার নেত্রীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, বাংলাদেশ থেকে যেতে বাধ্য করেছে। আমরা এই জুলাই মানি না, কখনো মানব না। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, আমরা শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ইনশাআল্লাহ ওয়েলকাম করে নিয়ে আসব।’
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা।
তিনি বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই অপরাধীরা এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নাশকতার মাধ্যমে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু জুলাই যোদ্ধারা কোনো ভয়-ভীতিকে পরোয়া করে না। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় পুলিশি টহল বাড়াতে হবে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার এবং কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
মতামত দিন