নিলামের আগের রাতে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কনটেইনারে আগুন, উঠছে নানা প্রশ্ন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন লাগার ঘটনায় নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতি উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যে কনটেইনারটিতে আগুন লেগেছিল সেটি রোববার (৭ জুন) নিলামে তোলার কথা ছিল।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ঘটনার পর আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল’র কয়েকজন কর্মীসহ অন্তত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় ডিএইচএলের একটি কনটেইনারে আগুন লাগে। তবে ঘটনাস্থলটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে হওয়ায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আগুন লাগার স্থানের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও কিছু খোলা তার থাকলেও শর্টসার্কিটের সাধারণ কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক ছিল। ফলে আগুনের উৎস নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছেন। যদিও ওই এলাকায় ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেট থেকে আগুন লাগলে তা সাধারণত ধীরে ছড়ায়। অথচ ভিডিও ফুটেজে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।
এদিকে ফুটেজে দেখা যায়, আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থলের কাছেই ডিএইচএলের এক কর্মী অবস্থান করছিলেন। তিনি আগুন দেখতে পাওয়ার পরও কিছু সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরে অন্যদের বিষয়টি জানান। তার আচরণও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ—এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুড়ে যাওয়া কনটেইনারটিতে কাপড়ের রোল, কাগজজাত পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল। এসব পণ্য রোববার নিলামে তোলার কথা ছিল। আগুনের ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই কুরিয়ার গুদাম এলাকায় এটি দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বড় ধরনের আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এরপরও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, আগুনের উৎস ও কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। নাশকতার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে