খুমেক হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে, আহত ৫
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) ভোর ৬টার দিকে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং উদ্ধারকাজ চলাকালে নার্স ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।
আহতরা হলেন— হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্য তৌহিদ।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। কীভাবে হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।’
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘ভোর ৬টার দিকে আমরা আগুন লাগার খবর পেয়ে বয়রা থেকে ৩টি ইউনিট এসে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৭টি ইউনিট এসে কাজ শুরু করে। প্রায় ১ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে চার তলা ভবনের ৩ তলার স্টোর রুমে লাগা আগুন। প্রথমে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা ছিল। কারণ সব গেটে তালা দেওয়া ছিল, যা ভেঙে ভেতরে ডুকতে হয়েছে। প্রথমেই আমরা বেলকনি থেকে ৪/৫ জনকে উদ্ধার করি। পরে আগুন নির্বাপণ শেষে আর কাউকে হতাহত অবস্থায় আমরা পাইনি।’
রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের বেশিরভাগ মানুষই ঘুমে ছিলেন। স্টোর রুমে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের ধোঁয়া ও শিখা দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন এবং নিরাপদে নিচে নেমে হাসপাতালের মাঠে অবস্থান নেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক স্বজন তাদের রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
তবে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ ও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা অভিযোগ করেন, ওটিতে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন চলে। সেখানে এভাবে আগুন লেগে সব পুড়ে যাওয়ার ঘটনা রহস্যজনক। এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে খুমেক হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী আনসার কমান্ডার এসিপি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুইজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে