Views Bangladesh Logo

আয়কর-ভ্যাটে ছাড় নয়, ব্যবসার সব বাধা দূর করার আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

আসন্ন জাতীয় বাজেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আয়কর ও ভ্যাটে বড় ধরনের কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত প্রাক-বাজেট পরামর্শক কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাজেটকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের মধ্যকার এটিই বছরের সবচেয়ে বড় আলোচনা সভা।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে করকাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘ট্যাক্সে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব না হলেও ব্যবসা করতে যত বাধা রয়েছে, আমরা তা সরিয়ে দিতে চাই। প্রাইভেট সেক্টরের প্রবৃদ্ধিই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের চার্জ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ব্যবসাবান্ধব নয়। তিনি বন্দর এলাকায় দুর্নীতি রোধ এবং 'ডুয়িং বিজনেস' সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যাগুলো আমাদের জানালে দ্রুত সমাধান করা হবে।’

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নির্দিষ্ট সময় চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফকে বলেছি, দুই বছরের একটি কুশন প্রয়োজন। তৃতীয় বছর থেকে অর্থনীতি টেক-অফ করবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নতুন সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক চাপ সামলাতে হয়েছে।

বেসরকারি খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যান্য খাত কেন পিছিয়ে আছে তা গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি ঘোষণা দেন যে, আগামী অর্থবছরে অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে কার্যকর অবকাঠামো খাতে গুণগত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। বড় ব্যবসায়ীদের মূলধন সংকটের বিষয়টিও আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংককে জানানো হয়েছে।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমানের চেয়ে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। সংগঠনের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, ‘নারী ও প্রবীণদের জন্য এই সীমা সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা উচিত।’

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ