১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা: ইসি আনোয়ারুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল আগামী শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ভোটগ্রহণের পরদিন বিকেলের মধ্যেই ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা এবং একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ফলে দ্রুততম সময়ে তথ্য সংগ্রহ ও ফলাফল প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, দুর্গম কিছু এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ফলাফল পেতে সামান্য বিলম্ব হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে শঙ্কা ছিল, তা অনেকাংশে কেটে গেছে উল্লেখ করে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবারের নির্বাচনে সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসব বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং নির্বাচন কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করবে। কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর কেন্দ্রীয় সেলে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিগত নজরদারির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, যেসব ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি মুহূর্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে কমিশনের অধীনে একটি বিশেষ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল সার্বক্ষণিক কাজ করবে বলেও জানান তিনি। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দেন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনোভাবেই মোবাইল ফোন সঙ্গে নেওয়া যাবে না।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ৫ আগস্টের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ পাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এবার ভোট জালিয়াতি বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই বললেই চলে।
তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে