Views Bangladesh Logo

২০২৬ বিশ্বকাপ: অলিম্পিককে ছাড়িয়ে আয়ের নতুন রেকর্ডের পথে ফিফা

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলার পথে রয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির সর্বশেষ আর্থিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আয়ের দিক থেকে অলিম্পিক গেমসের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিচ্ছে ফিফা।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ সালের এই আসরকে ‘‘মানবজাতির দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ আসর’’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য মূলত টুর্নামেন্টের বিশাল পরিসর এবং বাণিজ্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই ফুটিয়ে তোলে।

ফিফার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ চক্রে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কেবল চলতি বছরেই প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক গেমস থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৫.২৪ বিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান বিশ্ব ক্রীড়া অর্থনীতিতে ফিফার ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে স্পষ্ট করে দেয়।

ফিফার এই রেকর্ড রাজস্ব লক্ষ্যের পেছনে মূলত টুর্নামেন্টের কাঠামো ও বাণিজ্যিক কৌশলে আনা আমূল পরিবর্তনগুলো কাজ করছে। বাজার বিশ্লেষক ও ফুটবল সংশ্লিষ্টরা এর পেছনে চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। সেগুলো হলো— অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা, মোট ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বাড়িয়ে ১০৪-এ উন্নীত করা, ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় আন্তর্জাতিক মিডিয়া পার্টনারদের কাছে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য ও চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া এবং টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে আংশিক লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা রাখা।

টিকিট এবং হসপিটালিটি খাত থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের (৯৫০ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি। এছাড়া বাণিজ্যিক স্পনসরশিপ থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার এবং লাইসেন্সিং চুক্তি থেকে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ফিফা। ইতোমধ্যে অ্যাডিডাস, কোকা-কোলা এবং আরামকোর মতো ১৬টি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

তবে এই বিশাল আয়ের পূর্বাভাসের মাঝেও কিছু বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফিফাকে দেওয়া কর অব্যাহতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজক শহরগুলোর সঙ্গেও ফিফার কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ও পরিচালনার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, অথচ বাণিজ্যিক আয়ের খুব সামান্য অংশই তারা পাচ্ছে। বাজেটের চাপে অনেক শহর তাদের 'ফ্যান ফেস্টিভ্যাল' পরিকল্পনা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।

সংস্থার আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সুযোগ-সুবিধাও। তাঁর বার্ষিক বোনাস ২ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৩ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক পারিশ্রমিক প্যাকেজ এখন প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ