নোকিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম এল-ব্যান্ড ডিডব্লিউডিএম নেটওয়ার্ক স্থাপন ফাইবার@হোম-এর
অপটিক্যাল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের এই যুগান্তকারী সম্প্রসারণে দ্বিগুণ হলো ফাইবারের মাধ্যমে তথ্য পরিবহনের সক্ষমতা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিলম্বের সময় কমল সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং পাঁচ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপ ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ কমল ৩৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ তথ্য পরিবহন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ফাইবার@হোম লিমিটেড দেশের প্রথম এল-ব্যান্ড ঘন তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিভাজন মাল্টিপ্লেক্সিং (ডিডব্লিউডিএম) প্রযুক্তির অপটিক্যাল তথ্য পরিবহন নেটওয়ার্ক সফলভাবে স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে এই ঘোষণা আসে।
এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর ফলে অপটিক্যাল যোগাযোগের জন্য ব্যবহারযোগ্য তরঙ্গবর্ণালির সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে। ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট ব্যবহার, চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কের তথ্য আদান-প্রদান, বৃহৎ পরিসরের ক্লাউড কম্পিউটিং এবং দেশব্যাপী ডিজিটাল রূপান্তরের চাহিদা পূরণে এই নেটওয়ার্ক সহায়তা করবে।
দেশে তথ্য আদান-প্রদানের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকায় দূরপাল্লার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোতে প্রচলিত সি-ব্যান্ড তরঙ্গবর্ণালির সক্ষমতা প্রায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। বিদ্যমান সি-ব্যান্ড অবকাঠামোর পাশাপাশি এল-ব্যান্ড তরঙ্গবর্ণালি যুক্ত করে ফাইবার অ্যাট হোম উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন সি+এল প্রযুক্তিভিত্তিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই নেটওয়ার্ক দেশের প্রধান সাবমেরিন কেব্ল সংযোগকেন্দ্র, তথ্যকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উচ্চমাত্রায় তথ্য পরিবহনকারী যোগাযোগপথকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি মহানগর ও আঞ্চলিক পর্যায়ের তথ্য পরিবহন নেটওয়ার্কেও এর সম্প্রসারণ চলছে।
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও পরিচালনাগত সুবিধা
প্রতি তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সর্বোচ্চ ১.২ টেরাবিট তথ্য পরিবহনক্ষমতা: নোকিয়ার তৈরি আধুনিক সমন্বিত আলোকসংকেত প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির সাহায্যে এই ব্যবস্থা প্রতি তরঙ্গদৈর্ঘ্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০ গিগাবিট থেকে ১.২ টেরাবিট পর্যন্ত গতিতে তথ্য পরিবহন করতে পারবে। ফলে নতুন করে ব্যয়বহুল খননকাজ ও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো নির্মাণ না করেই বিদ্যমান অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে একাধিক টেরাবিট তথ্য পরিবহন সম্ভব হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্ব কমবে: যোগাযোগপথের উন্নয়ন ও নেটওয়ার্ক কাঠামোর কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তথ্য পাঠানো ও উত্তর পাওয়ার সম্মিলিত সময় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। এতে ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যবসায়িক ক্লাউডভিত্তিক সেবা, আর্থিক লেনদেন, উচ্চ মানের ভিডিও সম্প্রচার এবং চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কে তথ্য পরিবহন আরও নির্বিঘ্ন হবে।
পাঁচ ন্যানোমিটার চিপে বিদ্যুৎ খরচ ৩৫ শতাংশ কমবে: নোকিয়ার অপটিক্যাল সংকেত প্রেরণ ও গ্রহণকারী যন্ত্রে পাঁচ ন্যানোমিটার সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতি বিট তথ্য পরিবহনে বিদ্যুৎ খরচ ৩৫ শতাংশ কমবে। আঞ্চলিক টেলিযোগাযোগ তথ্য পরিবহনে এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে।
তাপ উৎপাদন কমবে, পরিবেশবান্ধব পরিচালনা সহজ হবে: কম বিদ্যুৎ খরচের ঘন বিন্যাসের পাঁচ ন্যানোমিটার চিপ ব্যবহারের ফলে তথ্যকেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ কার্যালয়ে তাপ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে, যন্ত্রপাতির স্থায়িত্ব বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে।
এক নজরে প্রধান অর্জন
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এল-ব্যান্ড ডিডব্লিউডিএম প্রযুক্তির ব্যবহার জাতীয় পর্যায়ে তথ্য পরিবহনের সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিদ্যমান ফাইবার অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রতি তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সর্বোচ্চ ১.২ টেরাবিট তথ্য পরিবহন, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম বিলম্ব এবং ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে।
সি+এল-ব্যান্ড প্রযুক্তি: বাংলাদেশে প্রথম।
প্রতি তরঙ্গদৈর্ঘ্যে তথ্য পরিবহনক্ষমতা: সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ১.২ টেরাবিট।
তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্ব হ্রাস: ২০–৩০ শতাংশ।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়: ৩৫ শতাংশ।
বিশেষ সুবিধা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগপথে উন্নত সেবা।
ফাইবার@হোমের চেয়ারম্যানের বক্তব্য
ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ময়নুল হক সিদ্দিকী বলেন, “প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এমন টেকসই, নির্ভরযোগ্য ও অত্যন্ত উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল তথ্যের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
“বাংলাদেশের প্রথম এল-ব্যান্ড ডিডব্লিউডিএম নেটওয়ার্ক সফলভাবে স্থাপন একটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অর্জন এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে পরবর্তী প্রজন্মের অপটিক্যাল প্রযুক্তি নিয়ে আসার এবং দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিকে সহায়তা করার উপযোগী ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।”
নোকিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক প্রধান মিং কিন এনজিয়াম বলেন, “নোকিয়ার পরবর্তী প্রজন্মের অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে পিএসই-৬এস সমন্বিত আলোকসংকেত প্রযুক্তি এবং সি+এল-ব্যান্ড সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। এর ফলে ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড বিদ্যমান ফাইবার অবকাঠামো থেকেই অতিরিক্ত তথ্য পরিবহনক্ষমতা কাজে লাগাতে পারবে এবং সম্প্রসারণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবে।
“এল-ব্যান্ড যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে ব্যবহারযোগ্য অপটিক্যাল তরঙ্গবর্ণালি সম্প্রসারণ করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ক্লাউড কম্পিউটিং, তথ্যকেন্দ্র এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ চাহিদা পূরণের জন্য ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত ভিত্তি তৈরি করছি।”
ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড সম্পর্কে
ফাইবার অ্যাট হোম বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ তথ্য পরিবহন খাতের অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি), টেলিযোগাযোগ অপারেটর, তথ্যকেন্দ্র, সরকারি সংস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা খাতে উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন তথ্য পরিবহন সংযোগ দিয়ে থাকে।
নিরবচ্ছিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে ফাইবার অ্যাট হোম এমন নির্ভরযোগ্য, সম্প্রসারণযোগ্য ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী নেটওয়ার্ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা ক্রমবর্ধমান সংযুক্ত ডিজিটাল অর্থনীতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সহায়তা করবে।
মতামত দিন