সিলেটে তিন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে সুরমা-কুশিয়ারার পানি
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির কারণে সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে আপাতত নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস না থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করেছে।
অন্যদিকে সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্ট এবং কুশিয়ারা নদীর শেওলা ও শেরপুর পয়েন্টে পানি এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। সারি, গোয়াইন, পিয়াইন, লোভা ও ধলাই নদীর পানিও কিছুটা বেড়েছে, তবে সেগুলোও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী সাত দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি বাড়লেও কুশিয়ারার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আরও একদিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের আসামের বন্যার পানি নামতে থাকায় সুরমা ও কুশিয়ারায় পানি বেড়েছে। তবে সিলেট, আসাম বা মেঘালয়ে নতুন করে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস না থাকায় এ অঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।
এদিকে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলার ১৩ উপজেলায় ৫৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার ৩১৯ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১ হাজার ২৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ১৭৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ১০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪১০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ১০৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মতামত দিন