Views Bangladesh Logo

কর্মদিবসগুলোতে বইমেলায় ক্রেতার সংখ্যা কম

মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেছে। বসন্ত-ভালোবাসা দিবস ও ছুটির দিন (শুক্রবার-শনিবার) অমর একুশের বইমেলায় বই বিক্রি জমে উঠলেও বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মেলার ১৯তম দিনে বই বিক্রিতে ছিল অনেকটা ভাটা। ছুটির দিনছাড়া মিলছে না ক্রেতা। বইমেলার বিভিন্ন স্টলকর্মীরা তাদের বিক্রিতে হতাশার কথা জানিয়েছেন।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর স্টলে দায়িত্ব থাকা সাদনান সাকিব ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, শুক্র-শনিবার যেভাবে মানুষ আসছিল, বইও বিক্রি হয়েছে অনেক। তবে সেই তুলনায় কর্মদিবসগুলোতে বিক্রির অবস্থা খুব একটা ভালো না। বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু ছুটির দিনের তুলনায় বিক্রি অনেক কম।

অক্ষর প্রকাশনীর স্টলের দায়িত্বে থাকা অর্পা বলেন, আমাদের প্রকাশনীতে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লার ও বিজ্ঞানভিত্তিক বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে এখন একটু বিক্রি কম হচ্ছে।

প্রথমা প্রকাশনীর স্টলকর্মী জহরুল ইসলাম বলেন, থেকে ছুটির দিনের তুলনায় আজকের বিক্রি খারাপ। অনেকে আসছে কিন্তু সেলফি তুলতেছে। কথা হচ্ছে শুধু সেলফি তোলার জন্য এটা ভালো লাগে না একটাই বইও নিক দশটা সেলফি তুলুক।

তিনি বলেন, ছুটির দিনের চেয় এখন তুলনামূলক বই বিক্রি কম। প্রথমাতে রাজনীতি বিষয়ে বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। কবিতার বইয়ের বিক্রি খুবই কম।

এদিন, মেলা শুরু হয় বিকেল ৩ টায় চলে রাত ৯ টা পর্যন্ত। বুধবার মেলায় নতুন বই এসেছে ৭০টি। তার মধ্যে গল্প ৭, উপন্যাস ৬, প্রবন্ধ ৪, কবিতা ২৭, গবেষণা ১, ছড়া ৩, শিশুসাহিত্য ৬, জীবনী ৩, রচনাবলি ২, মুক্তিযুদ্ধ ১, ভ্রমণ ১, ইতিহাস ১, গণ-অভ্যুত্থান ২, অনুবাদ ২, অভিধান ১, সায়েন্স ফিকশন ১, অন্যান্য ২। মোট ৭০

এদিকে, বুধবার বিকেল ৪ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শিশুসাহিত্যের মহীরুহ রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুলফিকার শাহাদাৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শাহাবুদ্দীন নাগরী। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলা শিশুসাহিত্যে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই এক মহীরুহ। শিশুদের চিত্তবৃত্তির উন্মেষ ও প্রতিভার বিকাশ সাধনে তাঁর ছিল নিরলস প্রয়াস। তিনি নিজে যেমন শিশুদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন, তেমনি শিশুদের মধ্যেও স্বপ্নের বীজ বুনতেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল শিশুদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি ‘কচি-কাঁচার মেলা’র মাধ্যমে সারাদেশে শিশুদের মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি নিজে শিশুদের জন্য ছড়া লিখতেন এবং বিখ্যাত লেখকদেরও উৎসাহ দিতেন শিশুদের উপযোগী সাহিত্য রচনার জন্য। দাদাভাই তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে নীতিজ্ঞান, দেশপ্রেম ও চারিত্রিক গুণাবলি জাগ্রত করার চেষ্টা করতেন।

অপরদিকে, লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মাহমুদউল্লাহ, কাজল রশীদ শাহীন এবং তুহিন খান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মজিদ মাহমুদ, কবি কামরুজ্জামান এবং কবি শফিকুল ইসলাম।

সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সিনথিয়া, জেরিন তাবাসসুম হক, কোহিনুর আক্তার গোলাপী, মো. রবিউল হক, অর্পণা মজুমদার, নাদিয়া আরেফিন শাওন, সালাম শামীম, রহিমা খাতুন, পূরবী দেবী এবং রীতা ভাঁদুরী। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন তুলসী সাহা (তবলা), মো. শফিউজ্জামান (কী—বোর্ড), মো. আতিকুল ইসলাম (বাঁশি) এবং দীপঙ্কর রায় (অক্টোপ্যাড)।

আজকের অনুষ্ঠান:
আজ বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ : রশীদ করীম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন অনিরুদ্ধ কাহালি এবং সাখাওয়াত টিপু। সভাপতিত্ব করবেন সুব্রত বড়ুয়া।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ